শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপ‌তি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন ফেব্রুয়ারির রক্তঝরা পথ বেয়েই অর্জিত হয় মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ গাজীপুরের মাস্টারবাড়ী এলাকা হতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গাজীপুরের কাইঞ্জানুল এলাকা হতে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ধর্ষক সাগর গ্রেফতার প্রথম আলো সম্পাদকের জামিন বঙ্গবন্ধুর মানবতার দর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে হবে নির্মূল কমিটির সভায় বিশিষ্টজন মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন ক্ষতিকর নয়, দাবি বিটিআরসির টঙ্গীতে ৯ চিহ্নিত ছিনতাইকারী আটক ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিনে সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজসমূহে আনন্দ র‌্যালি ———————-সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ জাতীয় পার্টি ছাড়লেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব এম.এম নিয়াজ উদ্দিন প্রেম ঘটিত ঘটনায় টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যার চেষ্টা গাবতলীর কাগইল নায়েব উল্ল্যা আলিম মাদ্রাসায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত গাবতলীতে ছাত্রদলনেতা রাসেলের কুলখানী অনুষ্ঠিত আজম খানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাবতলীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা সম্পন্ন \ বৃহস্পতিবার বউ মেলা বগুড়ায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন জাতীয় যুব সম্মেলনের নিবন্ধন চলছে টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ভারতীয় হাইকমিশনারের শ্রদ্ধা
শান্তি চাই

শান্তি চাই

Spread the love

লিপিকা দত্ত সরকার

শান্ত চাই , শান্তি চাইবিশ্বের সকলেই মোরা শান্তি চাইবলতে পারো কোথায় গেলেচিরতরে পরম শান্তি খুঁজে  পাই ?
সৃষ্টির আদি কাল থেকে সকলেই শান্তির সন্ধানে চলেছি।অপরিসীম প্রচেষ্টা, কঠোর  সাধনা, দীর্ঘ উপাসনা, অনেক আরাধনা, উপবাস,  দান, ধ্যান, পূজা পাঠ, তীর্থযাত্রা কতকিছুই করে চলেছি একটু শান্তির আশায়।কিন্তু এগুলো করেও কি শান্তি প্রাপ্তি হয়েছে আমাদের?
এর মূল কারণ আমাদের চঞ্চল মন ও অপরিসীম চাহিদার লিপ্সা।
অর্থ-নাম-প্রভাব-শক্তি-ক্ষমতার বলে সাময়িক ভাবে সুখকে নিজের কাছে বন্দি করা যেতে পারে, কিন্তু শান্তিকে কখনই পাওয়া যায়  না এগুলোর প্রভাবে।
আমরা কেউ গায়ক, কেউ নায়ক, কেউ লেখক, কেউ বাদক প্রভৃতি নানান কিছু হতে চাইছি। হয়তো হলাম প্রচুর চেষ্টা চরিত্র ক‍রে।তারপর ইচ্ছা হোলো আরো বড় হতে চাই। অনেক নাম যেন হয়। সকলে যেন সম্মান করেন।তারপর ইচ্ছা হোলো শুধুমাত্র দেশে হলে তো হবেনা, সারাবিশ্বে নিজের নাম যেন ছড়িয়ে পড়ে।বিশ্বের সেরা পুরস্কার নিজের চাই ই চাই।আর এই চাহিদা পূর্ণ করতে মন সদা চঞ্চল। সবসময় ছুটে চলেছি সেই উগ্র চাহিদার পিছনে।আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে মনের শান্তি। কিছুতেই ধরবো ধরবো করেও তার নাগাল পাচ্ছি না। তীব্রতম অশান্তির আগুনে জ্বলে মরছি অহরহ।
কেউ আবার ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী প্রভৃতি হতে চাইছি।যতক্ষণ তা না হতে পারছি, প্রচন্ড চেষ্টা ও যত্ন সহকারে পরিশ্রম করে চলেছি।আশানুরূপ ফল পেলেও শান্তি পাচ্ছি না কিছুতেই নিজের মনে।অনেক বড় হতে যে হবেই আমাকে। অসাধ্য সাধন করতে হবে। তাতে যদি অসত্যের পথ অবলম্বন করতেও হয়, তাতেও  পিছুপা হবনা  আমরা। থামলে চলবে না কিছুতেই।ফলে শান্তি কখন হারিয়ে গেছে চিরতরে, আকন্ঠ  চাহিদার কালো সীমাহীন আঁধারে।
আমরা কেউ ধনী হতে চাইছি। ভাবছি যার আছে ধন, তিনিই  পান প্রকৃত সম্মান। সেই বিপুল অর্থ দিয়ে সবকিছু লাভ করতে পারা যায় হয়তো।এই ধন লাভ যতই করে চলেছি, চাহিদা ততই বেড়ে চলেছে। কিছুতেই মনে শান্তি পাচ্ছি না।আরো চাই, আরো আরো আরো………..এরপর ইচ্ছা জাগছে পৃথিবীর সেরা ধনবান হতে চাই।কিন্তু আশ্চর্য পৃথিবীর সেরা ধনীও ভাবেন আরো ধন চাই- তাঁর যা আছে তা খুব বেশি নয়।ফলে শান্তি তখন মরীচিকা।
কেউ ভালোবাসা পেতে চাইছি।অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে কারো ভাগ্যে জুটলো নকল ভালবাসা। অভিনয়ের ভালোবাসা।তার কথাতো লেখার অপেক্ষা রাখে না-সে তো আসল ভালবাসা পাওয়ার আশায় আশায় একসময় জীবন্ত লাসে পরিণত হল।
আর যার ভাগ্যে আসল ভালোবাসা বহু সুকৃতির ফলে মিলে গেল, সে চাইছে আরো ভালোবাসা চাই। এই ভালোবাসা কে এমন ভাবে পেতে চাই যেন সেই ভালোবাসার মানুষটির নিজের আলাদা অস্তিত্ব বলতে কিছু আর না থাকে। সে যেন আমার কথায় ওঠে-বসে-চলে-বলে, এমন কি ভাবেও আমার কথাতেই।যেন সেই ভালোবাসার মানুষ টি একটি কলের পুতুলে পরিণত হয়। তাকে দুমরে মুচরে নিংড়ে  নিজের করে পেতে চাই।যখন তাও পাওয়া হোয়ে গেল, তখন তার প্রতি মোহভঙ্গ হোলো একেবারে।এবার একেবারে নতুন ভালোবাসা পেতে চাই। অনেক অনেক অনেক নতুন চাই। নিত্য নতুন  ভালোবাসার স্বাদ পেতে চাই।আর সেই নতুন ভালবাসার মানুষ যেন শুধু আমাকেই ভালবাসে। 
এই ভালবাসা পেতে আমরা নিয়ম শৃঙ্খলা ধর্ম অধর্ম পাপ পুণ্য কোন কিছুই পরোয়া করি না।ফলে শান্তি কিভাবে আসবে মনের ঘরে ?
এরপর এক ইচ্ছা কোন ফাঁকে মনে বাসা বাঁধলো চিরযৌবন যেন বিরাজ করে দেহে, চিরবসন্ত যেন সাজিয়ে রাখে অনন্ত কাল আমার মনকে।কেমন করে তা সম্ভব !সেই চেষ্টা চলছে মনে মনে এবার সবসময়। ছটফঠ করে মরছে তা হাসিল করার চেষ্টায় নিজের মন।আর সেই মনের আকাশ কুসুম ইচ্ছার কারণে কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না। অশান্তি গ্রাস করছে তিলে তিলে নিজেকে সম্পূর্ণভরূপে। 
একসময় আমাদের চঞ্চল মনের এই অসম্ভব উগ্র চাহিদার কারণে অশান্তি তার চির অন্ধকারে আমাদের জীবন কে চিরতরে আবদ্ধ করে ফেলছে।সেখান থেকে মুক্তি আছে কি ?
আমাদের বিশ্বগ্রাসী চাহিদা পূর্ণ করার বাসনায় আমরা মনুষ্যত্ব বোধ-বিবেক- বিবেচনা সব হারিয়ে নিঃস্ব কাঙাল হয়ে চলেছি প্রতিদিনর প্রতিটি মূহুর্তে।
কত নিরাপরাধ মানুষকে পদদলিত করে, কত নিরীহ প্রাণকে টিপে হত্যা করে, কত সুন্দর জীবনকে দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা দিয়ে আমরা উপরে উঠতে চাইছি , কত মানুষের জীবনে চিরতরে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে নিজেকে উপরে তুলতে চাইছি প্রতিনিয়ত, তার হিসাব রাখার প্রয়োজন মনে করি না উন্মত্ত লালসার কারণে।
কিন্তু বন্ধু, অপরের সুখ শান্তি কেড়ে নিয়ে, অপরকে প্রকৃত অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে, অপরের দুঃখ কষ্টের কারণ হয়ে, নিজে শান্তি পাওয়া যায় না—কিছুতেই না।
একমাত্র চঞ্চল মনকে শান্ত করে, যদি চাহিদার আহুতি দিতে পারি উপেক্ষার কাছে, যদি নিজের কথা না ভেবে, নিজের ভোগ বিলাসীতার কথা না ভেবে, এই সৃষ্টির সকলের কথা ভাবতে পারি, সকলের মঙ্গল চিন্তা করতে পারি, প্রত্যেকের জন্য নিষ্কামভাবে কাজ করতে পারি, আর সমস্ত কিছু সেই সর্বশক্তিমানের চরণে সমর্পণ করতে পারি সর্বান্তকরণে, তবেই শান্তি চিরকাল বিরাজ করবে আমাদের গৃহে-আমাদের পবিত্র মনের মন্দিরে।
তাই এসো বন্ধু, চেষ্টা করে দেখি, কঠোর সংযমের সাধনা করে দেখি, চাহিদা থেকে দূরে থেকে শান্তির পথের সন্ধান পেতে পারি কিনা।আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একদিন শান্তির সন্ধান পাবোই চিরতরে।

লেখিকা-লিপিকা দত্ত সরকার

তারিখ _ 1. 12. 2019 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com