শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপ‌তি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন ফেব্রুয়ারির রক্তঝরা পথ বেয়েই অর্জিত হয় মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ গাজীপুরের মাস্টারবাড়ী এলাকা হতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গাজীপুরের কাইঞ্জানুল এলাকা হতে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ধর্ষক সাগর গ্রেফতার প্রথম আলো সম্পাদকের জামিন বঙ্গবন্ধুর মানবতার দর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে হবে নির্মূল কমিটির সভায় বিশিষ্টজন মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন ক্ষতিকর নয়, দাবি বিটিআরসির টঙ্গীতে ৯ চিহ্নিত ছিনতাইকারী আটক ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিনে সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজসমূহে আনন্দ র‌্যালি ———————-সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ জাতীয় পার্টি ছাড়লেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব এম.এম নিয়াজ উদ্দিন প্রেম ঘটিত ঘটনায় টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যার চেষ্টা গাবতলীর কাগইল নায়েব উল্ল্যা আলিম মাদ্রাসায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত গাবতলীতে ছাত্রদলনেতা রাসেলের কুলখানী অনুষ্ঠিত আজম খানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাবতলীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা সম্পন্ন \ বৃহস্পতিবার বউ মেলা বগুড়ায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন জাতীয় যুব সম্মেলনের নিবন্ধন চলছে টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ভারতীয় হাইকমিশনারের শ্রদ্ধা

কৃপণ

Spread the love

 লিপিকা দত্ত সরকার

” যা রাখি আমার তরে,মিছে তারে রাখি,  আমিও রব না যবে, সেও হবে ফাঁকি,  যা রাখি সবার তরে সেই শুধু রবে,  মোর সাথে ডোবেনা সে,রাখে তারে সবে।”
সংযম ভালো, কিন্তু কৃপণতা খারাপ। আমরা কেউ কথার কৃপণ, কেউ মনের কৃপণ, কেউ বা ধনের কৃপণ, কেউ কাজের ও কেউ আবার দানের কৃপণ। আরো কতো কিছুর যে কৃপণতা আছে, লিখে শেষ হবে না।
কথার কৃপণ :           কথা কম বলা ভালো, কিন্তু কৃপণ স্বভাবের জন্য সেই সামান্য কথা টুকুও কেউ কেউ প্রাণ খুলে বলতে পারে না। চিবিয়ে- চিবিয়ে অতি সঙ্কীর্ণভাবে খরচ করে, যাতে দাঁতের ফাঁকে একটুও অন্ততঃ আটকে রাখা য়ায়।        উদার যারা, সামান্য একটি কথা বললেও , তার কথার মাধুর্য- সৌন্দর্য্য মানুষের মনকে স্পর্শ করবেই।          কথার কৃপণেরা_ কথার দ্বারাও তাঁরা কারো প্রশংসা করতে চায় না।
ধনের কৃপণ :           কেউ কেউ খরচের ভয়ে নিজের ধনসম্পত্তি ভোগ করেন না।কাউকে দান করা তো স্বপ্নের ও অতীত। ধন খরচের ভয়ে শান্তিতে কোথাও মিশতেও পারেন না, পাছে কেউ ধন চেয়ে বসেন তাঁর কাছে।              কোথাও গেলে নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করার জন্য উপহার- মিষ্টি নিয়ে যেতে হয়, সেটাও ভূলে যান তাঁরা। ভাবনা এমন, যাক পরের ধনে পোদ্দারি করবো আজকের দিনটা।       ধনের কৃপণেরা ভাবে মৃত্যুর পর, এই ধন পুঁটুলি বেঁধে পরোপারে নিয়ে গিয়ে খরচ মনে হয় করতে পারবো। কিন্তু সেই কৃপণের মৃত্যুর পর, সেই ধন সাত ভূতে লুটে খায়, বাজে খরচ করে নষ্ট করে।       কিন্তু যদি নিজের হাতে সেই ধন, নিজে প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করেন, বাকী কিছু মহৎ কাজে খরচ করেন, কত আর্শীবাদ,কত পূণ্য সঞ্চয় করতে পারেন তাহলে। লক্ষ্মী বড়ই চঞ্চলা_ধনের কৃপণদের একথা বোধগম্য হয় না কোনদিন। 
কাজের কৃপণ :            এই কাজের কৃপণেরা ভাবেন, না বাবা যদি হঠাৎ বেশি কাজ করে ফেলি ভুল কোরে? তার চাইতে ভীষণ মেপে, হিসাব করে, শুধু নিজের প্রয়োজনের কাজটুকু করবো। পাগল নাকি–অপরের জন্য বেশি কাজ কেউ করে? তার চাইতে হাত-পা গুটিয়ে চুপচাপ বসে থাকি। কাজ আবার মানুষে করে?            অপরের মাথায় ছড়ি ঘুরিয়ে কাজ যতটা পারা যায় করিয়ে নেবে, তবুও নিজে কাজ করবে না।
দানের কৃপণ :          ” যা দেবে অঙ্গে, তাই যাবে সঙ্গে “এই ধরণের মানুষেরা কখনো কাউকে কিছু দান করতে চান না। যা আছে নিজে ও নিজের পরিবার-প্রিয়জনদের জন্য ঢেলে উপরে খরচ করতে রাজি, কিন্তু প্রকৃত দুঃখীজনদেরও কিছু দেবেন না কিছুতেই। 
মনের কৃপণ :            এই কৃপণেরা মনটা সুন্দর ভাবে কাউকে দিতেও পারে না। সেখানে করে অভিনয় বা ছলনা কিংবা ভণ্ডামি।পবিত্র মনে সম্পূর্ণভাবে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসতেও পারেন না এই ধরনের কৃপণেরা। মনই তো সবকিছু।
শুধুমাত্র মন থেকে কাউকে কিছু সম্পূর্ণ রূপে সমর্পণ করতেও কৃপণতা। মন থেকে পরিপূর্ণ ভাবে ভালোবাসতে, সৎবুদ্ধি দিতে, দান করতে বা দুটো মিষ্টি কথায় অপরের প্রাণ জড়িয়ে দিতেও পারে না, পাছে মন বেশী খরচ হয়ে যায়। বোঝো ঠেলা! 
***” সকলের দান করা দেখে, এক কৃপণের আন্তরিক ভাবে দান করার ইচ্ছা, কিন্তু খরচের ভয়। সে এক সাধুর কাছে গিয়ে এর সমাধান চাইলো। সাধুজি বললেন__তুমি প্রতিদিন মনে মনে ঈশ্বরকে ৩ ফোঁটা মধু, ৩ ফোঁটা দুধ, ৩ ফোঁটা গঙ্গাজল, ৩ টি মিষ্টি দান করো।যেহেতু এই আন্তরিক দানে কোন খরচ নেই, তাই সেই কৃপণ দীর্ঘদিন ধরে, মন- প্রাণ থেকে এই ভাবে দান করছেন। একদিন ৩ ফোঁটা মধুর জায়গায় ৫ ফোঁটা মধু মনে মনে দিয়ে ফেলেছেন। বেশি খরচ হয়ে গেল ভেবে মনে মনে আবার ২ ফোঁটা যেই তুলে নিতে গেছেন ঐ কৃপণ দাতা, ঈশ্বর বা তার অন্তরাত্মা বলছেন,” তুই এতোই কৃপণ ? মনে মনে দান করতে গিয়েও তোর এতো কৃপণতা ? “ভাবো বন্ধু, কতো কৃপণ ও হতে পারে কেউকেউ।
তবে সেই কৃপণ মানুষটির মন ছিল বড়ই পবিত্র। ঈশ্বর কে তিনি পবিত্র মনে, আন্তরিক ভাবে দান করেছিলেন। তাইতো বেশী দান হয়ে গেছে ভেবে, আবার তুলে নিতে গিয়েছিলেন।ঈশ্বর তার মানসিক দানে তৃপ্ত হয়েই তার হাত চেপে ধরেছিলেন বা তার অন্তরাত্মা সারা দিয়েছিল। “
মানসিক পূজা কিন্তু সর্বোৎকৃষ্ঠ।বাহ্যিক আরম্বর নেই তাতে। থাকেনা লোক দেখানো ভণ্ডামি। সেখানে থাকে নিজেকে সর্বশক্তিমানের রাতুল চরণে সর্বান্তকরণে সমর্পণ। অন্তরের আকুতি। পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধা–যা প্রকৃত পূজা, আরাধনা, উপাসনা।
বাজে কোন খরচে কৃপণতা খুব খুব খুব ভালো। বাজে খরচ বা অপচয় বা অপব্যয় আমাদের সবসময় মন্দের দিকে, ধ্বংসের দিকে আকর্ষণ করে।সমস্ত রকম সংযম নষ্ট করে। সংযম ছাড়া শুভ কোন কিছুই লাভকরা যায় না জীবনে।
মহৎ কাজে কৃপণতা কখনও করা উচিৎ নয়। তবে লোকদেখানো খরচ নয়। যা প্রকৃত প্রয়োজন, ততটুকুই পবিত্র মনে, অহংকার শূণ্য হয়ে করা কর্তব্য। মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য যে কাজ, তা তো শুধুমাত্র ভস্মে ঘি ঢালা।
” চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণে দোষী। “

বিশ্বের সবথেকে শ্রেষ্ঠ কৃপণ নারীর চিত্রটি সংগৃহিত।

লেখিকা _ লিপিকা দত্ত সরকাররচনা কাল

25. 11. 2017 


নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com