শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপ‌তি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন ফেব্রুয়ারির রক্তঝরা পথ বেয়েই অর্জিত হয় মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ গাজীপুরের মাস্টারবাড়ী এলাকা হতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গাজীপুরের কাইঞ্জানুল এলাকা হতে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ধর্ষক সাগর গ্রেফতার প্রথম আলো সম্পাদকের জামিন বঙ্গবন্ধুর মানবতার দর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে হবে নির্মূল কমিটির সভায় বিশিষ্টজন মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন ক্ষতিকর নয়, দাবি বিটিআরসির টঙ্গীতে ৯ চিহ্নিত ছিনতাইকারী আটক ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিনে সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজসমূহে আনন্দ র‌্যালি ———————-সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ জাতীয় পার্টি ছাড়লেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব এম.এম নিয়াজ উদ্দিন প্রেম ঘটিত ঘটনায় টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যার চেষ্টা গাবতলীর কাগইল নায়েব উল্ল্যা আলিম মাদ্রাসায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত গাবতলীতে ছাত্রদলনেতা রাসেলের কুলখানী অনুষ্ঠিত আজম খানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাবতলীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা সম্পন্ন \ বৃহস্পতিবার বউ মেলা বগুড়ায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন জাতীয় যুব সম্মেলনের নিবন্ধন চলছে টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ভারতীয় হাইকমিশনারের শ্রদ্ধা
লোকমান বাহিনীর কাছে জিম্মি কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা, মাসে চাঁদা আদায় ৫ কোটি

লোকমান বাহিনীর কাছে জিম্মি কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা, মাসে চাঁদা আদায় ৫ কোটি

Spread the love

জনতারবাংলা ডেস্কে

লোকমান বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতীষ্ঠ রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে যেন জিম্মি হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে কেবল টাকা পরিশোধ করেই সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মুক্তি মিলছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারওয়ান বাজারের প্রগতি ক্লাব থেকেই চাঁদাবাজির ভয়ঙ্কর সব ঘটনা ঘটছে। পুরো এলাকায় সরকার দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে মো. লোকমান হোসেন ও তার বাহিনী। তিনি প্রগতি ক্লাবের সহ-সভাপতি।পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনও মূল্যে কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছে অপরাধী যে দলেরই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা করা যাচ্ছে না জানিয়ে কারওয়ান বাজার ওয়াসা গলি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফারুক প্রধানিয়া বলেন, অনেকবার লোকমান বাহিনীকে চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করেছি। কোনও ফল হয়নি।

দেখা যায়, আড়ৎ থেকে মালামাল চুরি হয়ে গেছে, অথবা দোকানের কর্মচারীকে ধরে মারধর করেছে। এমন বহু ঝামেলা হয়। চাঁদাবাজির বিষয়ে বহুবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কোনও লাভ হয়নি। উল্টো বিপদে পড়তে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারওয়ান বাজারের প্রায় সব ব্যবসায়ীই গোপন চাঁদাবাজির শিকার। কোনও কোনও ব্যবসায়ী প্রাণের ভয়ে গোপনে চাঁদা দেন। কিন্তু প্রকাশ করেন না। নানাভাবে চাঁদাবাজির শিকার হওয়াদের মধ্যে জসিমসহ মোট ৯২ জন ব্যবসায়ী অভিযোগটি করেছেন।

পুরো এলাকায় সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে মো. লোকমান হোসেন। তার পিতার নাম মো. ইসমাইল হোসেন। বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানাধীন কড়িহাটি গ্রামে। সে কাওরানবাজার কিচেন মার্কেট চতুর্থ তলার ছাদে বসে। তার বিশাল এক বাহিনী পুরো কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে।

সারাদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে কাঁচামাল কারওয়ান বাজারে আসে। প্রতিদিন এখানে কমপক্ষে এক হাজার কাঁচামালের ট্রাক আসে। প্রতি ট্রাক থেকে পাঁচশ’ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। সে হিসেবে প্রতি রাতে কারওয়ান বাজারে শুধু কাঁচামালের ট্রাক থেকেই পাঁচ লাখ টাকা চাঁদায় করে চাঁদাবাজরা। আর প্রতিমাসে শুধু কাঁচামালের ট্রাক থেকেই দেড় কোটি টাকা চাঁদা তুলে চাঁদাবাজরা। পুরো কারওয়ান বাজার থেকে শুধু লোকমান বাহিনীই পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে।

গত ১৭ আগস্ট রাতে এরশাদ পার্কের ভিতর থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যকরী কমিটির সদস্য জসিম পাটোওয়ারীকে তুলে নিয়ে যায় লোকমান বাহিনী। জসিমের অপরাধ, তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করেছেন। তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় কিচেন মার্কেটের ছাদে। সেখানে তাকে মারধরের পর ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ব্যবসায়ী জসিম পাটোয়ারী নিজেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা হয়েও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে হয়েছে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, লোকমান বাহিনীর লোকমানের কথাই যেন শেষ কথা। তার কথার বাইরে কেউ গেলে তাকে চরম খেসারত দিতে হয়।

অথচ গত ৪ আগস্ট কারওয়ান বাজার-কেন্দ্রিক চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছিলেন, ‘চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আমরা এখানে কোনও ধরনের চাঁদাবাজি, মস্তানি করতে দেব না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারিতেও কোনও কাজ হয়নি।

গত শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। বর্তমানে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তা চলমান থাকবে। অপরাধী যে দলেরই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. আনিসুর রহমান বলেন, কারওয়ানবাজারে বহুদিন ধরেই চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। কারওয়ান বাজারে দু’টি গ্রুপ চাঁদাবাজি করত। তার মধ্যে একটি হচ্ছে নোয়াখালী গ্রুপ। এই গ্রুপটির নেতৃত্বে রয়েছে লোকমান বাহিনী। লোকমান বাহিনী বহুদিন চাঁদাবাজি করেছে। বর্তমানে পুলিশি তৎপরতার কারণে তাদের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে গেছে। কারওয়ান বাজারকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করতে সেখানে শিগগিরই একটি পুলিশ ফাঁড়ি বসানো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com