August 5, 2020, 7:16 am

পূজা

Spread the love

লিপিকা দত্ত সরকার(ভারত)

” ঈশ্বর সত্য হ্যায়,   সত্যহি শিব হ্যায়,  শিবহি সুন্দর হ্যায়,  সত্যম্  শিবম্  সুন্দরম্। “
সত্যই ধর্ম- সত্যই আরাধনা- সত্যই সেই পরমশক্তি- সত্যই মঙ্গলময়।
আমরা সকলেই কমবেশি নানা পূজা করে থাকি। হিন্দুদের তো বারোমাসে তের পার্বণ।
সংসারের মোহজালে আমরা এমনই আবদ্ধ হয়ে যাই যে , ঈশ্বর কে একেবারে ভূলে যাই।  ভুলে যাই এই সৃষ্টির পরম সত্য – শুভ শক্তিকে। মনে এমন বোধ জন্মে আমিই সর্বময় কর্তা—যা খুশী তাই করতে আমরা পারি।
তাই জাতি- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা পূজা, উপাসনা, আরাধনা, প্রার্থনা, আচার, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই সর্বশক্তিমানকে, সেই অনন্ত শক্তিকে বারবার আমরা স্মরণ করার চেষ্টা করি।
যতই আমরা নাস্তিক হই না কেন, যতই মুখে বলি আমি ঈশ্বর  মানি না, যতই সুস্থ অবস্থায়, যৌবনের দাপটে, অহংকারে মত্ত হয়ে,  তাঁর শক্তিকে অবহেলা করি —তবুও তিনি আছেন। এক শুভ শক্তি, এক অনন্ত শক্তি—যাঁর ইচ্ছা শক্তির কাছে আমরা খেলার পুতুল মাত্র।
পূজা দুই প্রকার।একটি বাহ্যিক পূজা।অপরটি আভ্যন্তরীণ পূজা।
এই বাহ্যিক পূজা আমরা স্নান করে, নতুন বা ধোয়া বস্ত্র পরে,ক্ষমতা অনুযায়ী কম উপাচারে বা  ষোড়শ উপাচারে, নানা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে করে থাকি। এতে আমরা পূজা করলাম বলে মনে শান্তি পাই। তাতে আমাদের আসল ভক্তি আছে কিনা ভাবিই না, কিন্তু পূজা করলাম বলে মনে তৃপ্তি অনুভব করি।
আভ্যন্তরীণ পূজা—বাহিরে দেখানোর কিছুই নেই। পবিত্র অন্তরের ভিতরে শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে যা করা হয়।আভ্যন্তরীণ পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা সর্বশক্তিমানের কাছে, পরমেশ্বরের কাছেই পৌঁছে যায়। 
পূজা আমরা সাধারণতঃ কোন কিছু চাহিদা পূরণ হলে বা পাওয়ার আশা নিয়ে করে থাকি। আবার যদি কখনো কোন অপরাধ করি বা মারাত্মক ভূল করি– তার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে, ক্ষমা পাওয়ার জন্যেও করে থাকি।
যখন ভিতরে হবে তীব্রতম বীবেকের দংশন, তখন অন্তরের কঠিন – তীব্রতম দাহিকা শক্তির দ্বারা নিজের ভিতরের সমস্ত পাপ বোধকে,  অন্য সমস্ত চাওয়া- পাওয়াকে পুঁড়িয়ে ছাড়খাড় করে, অশ্রুজলে জগৎজননীর/ সর্বশক্তিমানের  চরণকে অভিষিক্ত করে, হৃদয়ের পদ্মাসনে তাঁকে বসিয়ে, শ্রদ্ধার দ্বীপ জ্বালিয়ে, ভক্তির ধূনো পুড়িয়ে, দৃঢ় বিশ্বাসের নৈবিদ্য সাজিয়ে, আকূল করা- প্রাণমন ব্যাকুল করা  দৃঢ় সংকল্প করে , নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে যদি সমর্পণ করতে পারি, আমাদের অন্তরের সেই নিষ্ঠা, সেই আকুল করা ডাক যদি সত্যিই হয়, যদি আমরা সমস্ত কিছুর বিনিময়ে নিজের শুভ লক্ষ্য বস্তুতে থাকি অবিচল, তবেই আমাদের এই পূজা হবে প্রকৃত পূজা, যাতে একদিন সেই শুভশক্তির আর্শীবাদ আমারাপাবই। 
ঈশ্বর মঙ্গলময়। সকলের মঙ্গলের জন্যই তিনি সবকিছু করেন। তিনি সত্যস্বরূপ। তিনিই প্রকৃত আনন্দস্বরূপ।
এস বন্ধু আমরা আভ্যন্তরিণ পূজাতে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে করি নিবেদন, করি সমর্পণ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com