August 5, 2020, 7:30 am

সচল রাখতে এখনই পরিকল্পনা করুন

সচল রাখতে এখনই পরিকল্পনা করুন

Spread the love

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি এখন সম্ভাবনাময় একটি খাত। দেশীয় কাপড়কে দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে বা ফ্যাশন সচেতন করতে এ ইন্ডাস্ট্রির অবদান স্বীকার করতেই হবে। বিশ্বের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির ঠিক বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গড়ে ওঠে বাংলাদেশের এ শিল্প খাত। কারণ বিশ্বের সর্বত্রই পোশাক সংগ্রহ মৌসুমকেন্দ্রিক, আর আমাদের এখানে উৎসবভিত্তিক। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন করে বিত্তশালীরা। কিন্তু আমাদের দেশে এ ইন্ডাস্ট্রি প্রথম থেকেই মধ্যবিত্তকে ফ্যাশনেবল করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও। পহেলা বৈশাখ একটি সর্বজনীন উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে এই ইন্ডাস্ট্রি বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করে থাকে। আর বাংলাদেশের ফ্যাশন উৎসবকেন্দ্রিক হওয়ায় এর লেনদেনের চিত্রটা বেশ আকর্ষক। মূলত রোজার ঈদে সবচেয়ে বেশি আয় হয়ে থাকে ফ্যাশন হাউসগুলোর। বার্ষিক বেচাকেনার ৪০ শতাংশ আসে এ সময়ে। এর পর ২০ শতাংশ আসে বৈশাখের সময়ে। বাকি ৪০ শতাংশ বিক্রি হয় বছরের অন্যান্য সময়ে।

ফ্যাশন হাউসগুলোর মালিকদের সংগঠন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ফ্যাশন উদ্যোগ) গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার ফলে ইতোমধ্যে বৈশাখী বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। করোনার কারণে শুধু মার্চেই ক্ষতি হতে পারে ১২৫ কোটি টাকা। তবে রোজাসহ হিসাব করলে দেশীয় পোশাকশিল্প প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়বে।

এ ক্ষতি তো আছেই। বড় চিন্তা এখন বৈশাখী বিক্রি না হওয়ায় দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর কর্মীদের আগামী তিন মাসের বেতন-ভাতা। একই সঙ্গে রয়েছে প্রান্তিক কারু ও বয়নশিল্পীদের কাজের মজুরি। ফ্যাশন হাউসগুলোর কাছে তাদের বকেয়া রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এ টাকা কীভাবে পরিশোধ হবে, সেটাও এখন চিন্তার বিষয়। ফ্যাশন উদ্যোগের সভাপতি শাহীন আহমেদের দাবি আমাদের কাছে যথার্থই মনে হচ্ছে। তিনি অনুদান চাচ্ছেন না, চাচ্ছেন ঋণ। তার দাবি, দেশীয় পোশাকশিল্পে যুক্ত প্রান্তিক কারু ও বয়নশিল্পীদের কাজের মজুরি এবং ফ্যাশন হাউসের কর্মীদের বেতন পরিশোধে সরকার বিনা সুদে এক বছরের জন্য অন্তত ৫০০ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করুক। আমরাও মনে করি, রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের জন্য সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে যেমন প্রশংসিত হয়েছে, এ খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করলে করোনার প্রভাব থেকে উদীয়মান এই শিল্প খাত বেঁচে যায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com