May 26, 2020, 2:09 am

News Headline :
গাবতলীতে বিপ্লবের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ গাবতলী বাগবাড়ীতে নগদঅর্থ ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ গাবতলীর ১০নং বালিয়াদিঘী ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা টঙ্গীতে র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শিশুধর্ষণের প্রধান আসামী নিহত সহকর্মীরাই হত্যা করে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী দেলোয়ারকে মানিকগঞ্জে জেলা আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ লীগের সাধারন সম্পাদক এ এইচ এম আব্দুল কাদেরের সহযোগিতায় সদস্যদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান রাজধানীর মিরপুরে ২০১৩ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বাস্তবায়ন কমিটির সংবাদ সম্মেলন দেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত, সর্বোচ্চ মৃত্যু পার্বতীপুরে শিশু কন্যাকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার -১ পার্বতীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীর মাঝে বাই সাইকেল বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ স্বাগত জানালো জামায়াত

প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ স্বাগত জানালো জামায়াত

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী যে আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন তাকে স্বাগত জানিয়ে যথাযথভাবে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রদত্ত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ও বিধ্বস্ত উৎপাদনমুখী খাতগুলোকে টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রী যে আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন আমরা তাকে স্বাগত জানাই। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৭২,৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনার প্যাকেজটি একটি ঋণের প্যাকেজ। যেখানে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন শর্তে ঋণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্যাকেজে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাত এবং দেশের রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসী যারা করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের ব্যাপারে এবং দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠান ও খাতের সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত হচ্ছে কৃষি। এর উপখাত হিসেবে রয়েছে ডেইরি, পোল্ট্রি ও ফিসারিজ। কৃষিখাতের সাথে দেশের আড়াই থেকে তিন কোটি পরিবার সম্পৃক্ত। তারা একদিকে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ পায় না বরং উচ্চমূল্য তা ক্রয় করতে হয়। অপরদিকে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকেও তারা বঞ্চিত। প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কোনো আর্থিক সুবিধার উল্লেখ নেই।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী নাগরিক বিদেশে প্রতিকূল পরিবেশে অর্থ উপার্জন করে তা দেশে পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশের অর্থনীতির সকল সূচকগুলো যখন নিম্নমুখী হয়, তখন প্রবাসী নাগরিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে লাখ লাখ প্রবাসী আজ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। অথচ প্যাকেজে তাদের সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।

তিনি বলেন, দিন আনে দিন খায় এমন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের শ্রম দিয়ে দেশের জন্য কাজ করে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার প্যাকেজে কিছুই বলেননি। আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাত এবং প্রবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত। বর্তমান সংকটের সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে আরো বেশি করে প্রান্তিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো দরকার।

পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজে শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা খাতে যে অর্থায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা সবই ঋণ হিসেবে ব্যবসায়ীদের দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ভারী শিল্পের মালিকগণ স্বল্প হারে ও ক্ষুদ্র শিল্পের মালিকগণ তুলনামূলকভাবে বেশি সুদে ঋণের সুবিধা পাবেন। আমরা মনে করি এ বৈষম্য ঠিক নয়। সামগ্রিক বিবেচনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাগণ বেশি আনুকূল্য পাওয়ার দাবিদার।

তিনি বলেন, অর্থ যোগান দেয়ার দায়িত্ব হচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের। ব্যাংকগুলোর অবস্থা মোটেই ভালো নয়। তারল্য সংকটে ভুগছে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের গৃহীত ও অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোর পক্ষে ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনার টাকা সরবরাহ খুবই কঠিন হবে। তদুপরি কারা অর্থ পাবেন এবং যথাযথভাবে আর্থিক প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অনেকেই স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ এবং দুর্নীতিরও আশঙ্কা করছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘সবাই যেন সততার সাথে কাজ করেন। এই সুযোগ নিয়ে কেউ যেন আবার কোনো রকমের দুর্নীতি-অনিয়ম না করেন।’

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, আমরা মনে করি আর্থিক প্রণোদনার এ অর্থ কোনোভাবেই ঋণখেলাপিদের দেয়া যাবে না। জনগণের আশঙ্কা জাতির এ দুর্দিনে আর্থিক প্রণোদনার অর্থ কিছু লোভী বড় লোকদের হাতে চলে যায় কি না! কোনো সুবিধাবাদী লোভী বড় লোকেরা পরস্পরের যোগসাজশে যাতে আর্থিক প্রণোদনার অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যেতে না পারে তা দেখার দায়িত্ব সরকারের।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com