May 26, 2020, 3:08 am

News Headline :
গাবতলীতে বিপ্লবের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ গাবতলী বাগবাড়ীতে নগদঅর্থ ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ গাবতলীর ১০নং বালিয়াদিঘী ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা টঙ্গীতে র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শিশুধর্ষণের প্রধান আসামী নিহত সহকর্মীরাই হত্যা করে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী দেলোয়ারকে মানিকগঞ্জে জেলা আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ লীগের সাধারন সম্পাদক এ এইচ এম আব্দুল কাদেরের সহযোগিতায় সদস্যদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান রাজধানীর মিরপুরে ২০১৩ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বাস্তবায়ন কমিটির সংবাদ সম্মেলন দেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত, সর্বোচ্চ মৃত্যু পার্বতীপুরে শিশু কন্যাকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার -১ পার্বতীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীর মাঝে বাই সাইকেল বিতরণ
আমার স্মৃতিমাখা হৃদকমল ভাসায় চোখের কোন — ৬

আমার স্মৃতিমাখা হৃদকমল ভাসায় চোখের কোন — ৬

Spread the love

—- দুর্গা বেরা (কলকাতা, ভারত)

তখন ঘড়িতে সন্ধ্যা সাতটা হবে, (অনুমান)। প্রথমেই নিয়ে গেলেন একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রেস্টুরেন্টে, মেনুকার্ড আনতে বললেন হোটেলের বয়কে, বললেন- দিদি কি খাবেন দেখুন, এবং সঙ্গীদেরও বললেন। কেউ ফিসরোল, স‍্যান্ডুইচ। কেউ এগ-চিকেন চাউ খেলেন। আমি ভাই ভাত-ই খেলাম কবজি ডুবিয়ে। তখন রাত সারে সাতটা। গিয়ে বডি ফেলব আর উঠব না এই ভেবে। রাতের এলাহি খাওয়া দাওয়া সেরে( ভর্তা আর দেশি মুরগির মাংস আজও মুখে লেগে আছে), ফেরার পথে দেখালেন বিবি আনজুমন্নেছা স্মৃতি সৌধ। এরপর দেখালেন টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি। আমি ও আমার এক সঙ্গী, আমরা ‘জেলা পরিষদ বাংলো’তে ফিরলাম। যেখানে আমাদের থাকার ব‍্যবস্থা করেছেন অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। বাকিরা হারুন ও মামুনভাই এর সঙ্গে ঘুরতে থাকলেন। রূপম ও পলাশদা গেলেন টাঙ্গাইলশাড়ি কিনতে। অনুপম গেলেন মামুনভাই’এর সঙ্গে জায়গাটা ঘুরে দেখতে। আমি যদিও বাংলো’য় আরামে, তবু পরদিন সকাল দশটায় অনুষ্ঠানে আমাকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। বিদেশে হঠাৎই এমন সম্মান পেয়ে যেমন সম্মানিত ও আনন্দিত, তেমন চাপে।
হারুন ভাই বাংলো’তে এসে বলে গেলেন আগামীকাল সকাল সারে নটায় রেডি হয়ে থাকবেন দিদি, আমি এসে আপনাদেরকে নিয়ে যাব।

রাতে তেমন ঘুম হলো না। নতুন জায়গায় গেলে আমার ঘুম আসেনা সহজে। সকালবেলা বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছিল, তাই বেলা করে, মানে নটার দিকে স্নান সেরে তৈরি হয়ে নিলাম। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা হারুন ভাই নিতে এসে বললেন অনুষ্ঠান শেষে ওনার বাসায়(বাড়িতে) নিয়ে যাবেন এবং ওনার মিসেস আজ অফিস যাবেন না, কারণ আমাদের জন্য আয়োজন করবেন রান্নার এবং আপ‍্যায়ণের। আমি তো অবাক!কারণ আমার দেশে এমন নমুনা বিরল।
আমরা বললাম না। অফিস কামাই করে আমাদের জন্য আয়োজন করতে বারন করুন ভাবীকে। আমাদের এমনিতেই সময় কম, আজ দুপুর দুটোর মধ্যেই বেরিয়ে পড়তে হবে ঢাকার উদ্দেশ্যে, ওখানে কাল সকালেই প্রোগ্রাম। এখনো হারুনভাই ম‍্যাসেঞ্জারে আফসোস করে বলেন- আপনাদেরকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য হলনা, আমার।
এবার হারুনভাই সম্পর্কে একটু বলি- আমি ভারতে থাকি, হারুনভাই(হারুন অর রশীদ, হিটলার) থাকেন বাংলাদেশে। আমার লেখা – “বাহাত্তরের নামতা” এই কবিতাটি ভারতের-ই প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী সুভাশীষ রায় আবৃত্তি করেন ও ইউটিউব চ‍্যানেলে দেন। সেই “বাহাত্তরের নামতা” কবিতাটি বাংলাদেশের এক ‘বাবা মায়ের’ সন্তান, প্রবাশে থাকা কালীন শোনেন, এবং দেশে থাকা নিঃসঙ্গ বৃদ্ধা বাবা মা কে- তার কাছে, অর্থাৎ প্রবাশে নিয়ে যান। যার ফলে ‘বাবা ও মায়ের’ সন্তান ছেড়ে থাকার একাকীত্ব দূর হয়। (এবং এটাই আমার কবিতার বিষয় ছিল।) এই গোটা ঘটনা আমার দৃষ্টিগোচর হয় ফেসবুকের মাধ‍্যমে। তারপর-ই হারুনভাই এর সঙ্গে আমার আলাপ। যা পরবর্তীতে দুটো দেশের আলাপের জায়গা নেয়। এর জন্য অকৃত্রিম কৃতজ্ঞ আমি বাচিক-বন্ধু সুভাশীস রায়, হারুন ভাই এবং আমার লেখনীর কাছে।
মামুনভাই দিলেন তার লেখা -“বাংলা লোকসংস্কৃতিতে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ” নামে বইটি। পরে আবার একটি বই দিয়েছেন, যার নাম “বাংলার লোকজ ঐতিহ্য”। মামুন তরফদার আজীবন সদস্য বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, ঢাকা’র। এছাড়াও তার নিজের লেখা একাধিক বই আছে। শুনেছি মামুন ভাই এর বই কলেজে পড়ানো হয়। এমন ব‍্যক্তিত্ব দ্বয় আমাকে বিশেষ ভাবে সমৃদ্ধ ও আপ্লুত করেছিল, এটা নিশ্চিত।

পরদিন কথামতো হারুনভাই আমাদের নিয়ে গেলেন অনুষ্ঠানের জায়গায়। ভূঞাপুর নিরিবিলি ফুড কর্ণার মঞ্চে। অপূর্ব পরিবেশ, ফুলের টব দিয়ে সাজানো গোছানো, হাতের কাজকরা(নকশা) কাপড় দিয়ে মঞ্চ ও উপরের ছাউনি, তার নীচে গুণীজন সমাবেশ। তবে অচেনা দেশে, এ হেন অচেনা গুণীজন সমাবেশে নিজেকে বেশ অপ্রস্তুত মনে হচ্ছিল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই অপ্রস্তুত মনোভাব কেটে গেল। যখন দেখলাম কবি লীনা রহমান এগিয়ে এসে আমাকে আলিঙ্গন করে বড় আবেগে দিদি বলে ডাকলেন। নিয়ে গিয়ে একটি আসনে বসালেন। এই লিমা রহমান হল- এই অনুষ্ঠানে যার বই প্রকাশ হবে। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে লিমাকে। মিষ্টি মেয়েটির দিকে যেন তাকিয়েই থাকতে হয়। অনুষ্ঠান শুরুতেই সঞ্চালক হারুনভাই মঞ্চে উঠে আসন গ্রহণ করতে বললেন। মঞ্চে উঠে দেখলাম একে একে অনেকেই এগিয়ে এসে আমার সঙ্গে করমর্দন করে আলাপ করে গেলেন। দিয়ে গেলেন শুভেচ্ছা আন্তরিকতা। হল কার্ড-বিনিময়ও।
একে একে অনেকেই তাদের স্বরোচিত কবিতা পাঠ করলেন। অনেক গুণীব‍্যক্তিত্ব তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ বা, বক্তব্য রাখলেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় তিনজনকে স্মারক সম্মাননা দিলেন। এই অনুষ্ঠান অনেক ভালোলাগার মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছিল সেটি হল প্রতিটি বাংলাদেশবাসীর আন্তরিকতা এবং অনুষ্ঠানের শেষ অবধি সকলের উপস্থিতি। কোনো শ্রোতাবন্ধু, কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্টব‍্যক্তি আসন ছেড়ে উঠে যাননি। দেখে মনে হচ্ছিল এ কোন কবিতা তীর্থে এলাম? এমন হয়! আমাদের কলকাতায় যেখানে নিজের কবিতা পড়ে, বা নিজের অনুষ্ঠান শেষ করে অনুষ্ঠান চলাকালীন বাড়ি চলে যাই, আমরা।

(ক্রমশ…….)

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com