May 26, 2020, 3:39 am

News Headline :
গাবতলীতে বিপ্লবের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ গাবতলী বাগবাড়ীতে নগদঅর্থ ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ গাবতলীর ১০নং বালিয়াদিঘী ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা টঙ্গীতে র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শিশুধর্ষণের প্রধান আসামী নিহত সহকর্মীরাই হত্যা করে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী দেলোয়ারকে মানিকগঞ্জে জেলা আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ লীগের সাধারন সম্পাদক এ এইচ এম আব্দুল কাদেরের সহযোগিতায় সদস্যদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান রাজধানীর মিরপুরে ২০১৩ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বাস্তবায়ন কমিটির সংবাদ সম্মেলন দেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত, সর্বোচ্চ মৃত্যু পার্বতীপুরে শিশু কন্যাকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার -১ পার্বতীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীর মাঝে বাই সাইকেল বিতরণ
করোনা এবং ফেলে আসা আমার প্রিয় মানুষেরা… ( ২য় পর্ব )

করোনা এবং ফেলে আসা আমার প্রিয় মানুষেরা… ( ২য় পর্ব )

Spread the love

—বিশ্বনাথ মিত্র

এদিকে তখন একা একাই ঢাকা শহরে ছন্নছাড়া মন নিয়ে ঘুরছি ৷ কখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখনও ঢাকেশ্বরী মন্দির কখনও বা শাহবাগ ৷ আসলে আমি যে সাংস্কৃতিক গ্রুপটির সংগে বাংলাদেশে এসেছিলাম, তাঁরা যথেষ্টই মান্যিগণ্যি ৷ বিভিন্ন সাহিত্য সংস্থা এবং সংগঠন থেকে উনাদের আমন্ত্রিত করা হয়েছিল ৷ পাশাপাশি আমি যুক্ত ৎলাম অনাহূত সঙ্গী হিসাবে ৷ যদিও ওদের তরফ হ’তে আমাকে দলে টানার কোন কার্পণ্য ছিল না, কিন্তু আর কারোর বোঝা হতে চাইনি ৷ একদিক থেকে অবশ্য এতে ভালই হয়েছিল ৷ স্বাধীনভাবে সাধারণ মানুষের সংগে মেলামেশায় প্রভূত সুযোগ পেয়েছি ৷ সে রেস্তোয়ার ডেলিভারী বয়ই হোক বা অফিসফেরতা বাবু ৷ শুধু কী সাধারণ মানুষ, আজ তো খোদ ঢাকা, লালবাগের সহকারী পুলিশ কমিশনারের সংগে বেজায় বন্ধুত্ব হয়ে গেল ৷ উনার কথা পরে বলছি ৷
যে দেবীর নামে ঢাকা শহর, সেই ঢাকেশ্বরী মন্দির যাব না, হয় নাকি ! অপূর্ব পরিবেশে স্থাপিত এই মন্দির ৷ ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম উপাসনাস্থল ৷ এমন কী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং দুর্গোৎসবে এখানে এসে অষ্টমীর পুজোতে অংশগ্রহণ করেন ৷ আলাপ হল প্রধান পুরোহিত নিখিল চক্রবর্তীর সংগে ৷ কত রকমের ভক্ত তাদের মনের আকুতি নিয়ে দশভূজা দেবী দুর্গার কাছে আসছেন ৷ এখন করোনার জন্য সবই বন্ধ ৷ শুধু চক্রবর্তী মহাশয় নিয়মিত পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন সমাজকে, দেশকে এই ব্যাধির হাত থেকে বাঁচাতে ৷
হাসিনা সরকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে ২৪ ঘন্টা কড়া পুলিশবাহিনীকে পাহাড়ায় বসিয়েছেন ৷ ওদের ভিতর বেচারা ছোকড়া গোছের এক নিরাপত্তাকর্মী কী কাজে সার্ভিস বন্দুকটি রেখে এক মিনিটের জন্য গিয়েছিল.. হঠাৎ হাজির ঢাকা লালবাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ সানোয়ার হোসেন ৷ সংগে সংগে পুলিশ কর্মীটিকে ডিউটি থেকে অব্যাহতি দিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানালেন ৷ আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম ৷ অতঃপর নজরুলের জন্মভূমি আসানসোলে থাকি শুনেই জড়িয়ে ধরল ৷ সংস্কৃতমনস্ক নিপাট ভদ্রলোক ৷ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর হাজার হাজার জামাতপন্থী মুসলিমদের হাত থেকে প্রায় একক নেতৃত্বে ঢাকার জগন্নাথ হলকে রক্ষা করেছিলেন ইনি ৷ লালবাগের বাসিন্দা কী হিন্দু কী মুসলমান রমনী, ইনার জন্যেই রাতবিরেতেও গয়নাগাঁটি পড়ে লালবাগে নিশ্চিন্তে ঘুরতে সাহস করেন ৷ লালবাগের মানুষগুলিকে দেখেছি আমার শহরের মত গল্পবাগীশ এবং খাদ্যরসিক ৷ জায়গায় জায়গায় বিরিয়ানী আর চায়ের দোকান ৷ ভিড় করে দোকানে খায় ৷ গল্পগুজবে মেতে ওঠে ৷ কিন্তু এ’সময় এই প্রবণতা মারাত্মক হতে পারে ৷ কমিশনার সাহেবকে মাথায় রাখতে হবে, এই যুদ্ধ অসম যুদ্ধ ৷ শত্রুপক্ষ কোভিড-১৯ ভাইরাসটি জামাতধারী মনুষ্যকুল নয়, যে অস্ত্র দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে ৷ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি দরকারে তাঁর শক্ত ব্যাটনটি ব্যবহার করতে হবে বেয়াদপ মানুষগুলোকে সবক শেখানোর জন্য ৷

ভেবেছিলাম একে একজন নামী কবি তথা প্রকাশক, অন্যদিকে সুন্দরী, হয়ত তাই মেসেনঞ্জারে আমার লাগাতার প্রশ্নের কোন সাড়া দেবার প্রয়োজন বোধ করেন না ৷ ঢাকা নিবাসী ৷ হ্যাঁ, অনেকের চেনামুখ নাহিদা আশরফির কথাই বলছি ৷ তার এহেন ‘অসৌজন্যতার’ ( ? ) জন্যেই হয়ত বাংলাদেশে গিয়ে তার কথা ভুলি যাই ৷ কিন্তু বিষয়টি এখানেই শেষ নয় ৷ যে মেয়েটি আমাকে ‘পাত্তা’ দিত না, সকালে মোবাইল খুলে দেখি সেই নাহিদা সন্ধেবেলায় সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকায় ঐতিহ্যসম্পন্ন “কবিতা কাফে”-তে দু’পার বাংলার সাহিত্য আড্ডা এবং কবিতা পাঠ” অনুষ্ঠানে ৷ যানজট পেরিয়ে যখন ওখানে পৌঁছালাম কবিতা ক্যাফেতে, দেখি অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে ৷ আমাকে দেখে সহাস্যে এগিয়ে এল নাহিদা ৷ ঘরভর্তি আলো করে আছেন দুই বাংলার বিদগ্ধ কবি সাহিত্যিক চলচিত্রে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক, বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপকবৃন্দ… কারা ছিল না সেখানে ? কিছুক্ষণের ভিতরই বুঝলাম, নাহিদার অহংকার ( ? ) এর পশ্চাৎপদ রহস্যখানি ৷ ও এত স্যোসাল, এত সবাইকার খেয়াল রাখে যে ‘অকম্ম আমার’ মত মোবাইলে মুখ গুঁজে থাকার অালসেমি দেখানোর সময় নষ্ট করে না ৷ সাহিত্যপাগল বিদুষী নারী ৷ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার সাথে সাথে কে চা পেল বা কে টিফিন পেল না, যুগপৎ তদারকি করছে ৷ ভয় হচ্ছে যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া যদি এখন মানুষের সংগে মেলামেশা না শুরু করে দেয় ! আবেগঘণ মনের ধারাপাত যে পাটিগণিতের নিয়ম মানে না ৷
যখন অনুষ্ঠান শেষ হল, বেশ রাত ৷ যদিও ঢাকায় অনেক রাত অবধি বাস বা অটো চলে কলকাতার মত, তবু হোটেলে ফিরতে দেরী হবে ভেবে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম ৷ তার উপর ঢাকার রাস্তাঘাট কিছুই চিনি না ৷
‘আমরা ফকিরাপুলের দিকেই যাব ৷ চলুন আমাদের গাড়িতে ৷ হোটেলে নামিয়ে দেব ৷’ বক্তা যিনি, তিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত অফিসার ৷ নাম ফণীন্দ্র ত্রিবেদী ৷ সাহিত্যিক কিনা জানি না, তবে মানুষ হিসাবে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী অত্যন্ত সহজ সরল ৷ আর এইসব মানুষগুলোর জন্যই ভয় হয় বেশী ৷ কখন যে কার উপকার করতে বেরিয়ে যাবে ঠিক নাই ৷ তা যাক, কিন্তু ঘরে ফেরার সময় উনাদের সাবান দিয়ে হাত ও অন্যান্য বস্ত্র পর্যন্ত স্যানিটাইজেশন করতে হবে ৷ ওদের সংগে থাকা ঋতু সেন নামে কমবয়সী মেয়েটি কি স্কুলে পড়াতে যাচ্ছে ? মনে হয় না ৷ এখন তো লকডাউনের জন্য সব জায়গায় অন-লাইনে শিক্ষাপ্রদান করা হচ্ছে, যতদিন না করোনা চেনকে ভাঙ্গতে পারছি ৷
চলবে…
আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com