August 4, 2020, 10:48 pm

পোক্ত হচ্ছে চিন-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব, পরিস্থিতি সামলাতে ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠাচ্ছে ভারত!

পোক্ত হচ্ছে চিন-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব, পরিস্থিতি সামলাতে ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠাচ্ছে ভারত!

Spread the love

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সীমান্ত নিয়ে জেরবার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ভূমিকা। কিন্তু সেই বাংলাদেশের সঙ্গেই গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চাইছে বেজিং। তাই এবার কূটনৈতিক স্তরে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারতও।

হাইলাইটস

  • চিনের সঙ্গে ভারতের সংঘাত যত বাড়ছে, ততই যেন প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে বেজিং।
  • সম্পর্কের শিথিলতা ঝেরে এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পরিবর্তনের রাস্তায় হাঁটতে চলেছে ভারত।
  • ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখাই করেননি বলে শোনা যাচ্ছে।

চিনের সঙ্গে ভারতের সংঘাত যত বাড়ছে, ততই যেন প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে বেজিং। যা ভারতের কাছে অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। কারণ প্রতিবেশী নিয়ে ইদানীং ভারতের চিন্তা বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ‘হাতছাড়া’ হয়ে গেলে আরও কঠিন অবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে। তাই সম্পর্কের শিথিলতা ঝেরে এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পরিবর্তনের রাস্তায় হাঁটতে চলেছে ভারত।

জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান রাষ্ট্রদূত রিভা গঙ্গোপাধ্যায় দাসকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে নয়াদিল্লিতে। তাঁকে বিদেশমন্ত্রকের সচিব (পূর্ব) পদে বসানো হচ্ছে। আর ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে দুঁদে কুটনীতিবিদ বিক্রম ডরাইস্বামীকে। উল্লেখ্য, সিএএ, রোহিঙ্গা, তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির মতো একাধিক বিষয় নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েন চলছে। এমনকী ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখাই করেননি বলে শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ডরাইস্বামীকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়।

ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছে চিন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢাকায় লগ্নির পাশাপাশি সে দেশের গ্রামীণ বাজারগুলিতেও পণ্য নিয়ে হাজির হচ্ছেন চিনা বণিকরা। এমনকী করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়ে বারবার বাংলাদেশকে বার্তা পাঠিয়েছে চিন। বাংলাদেশের সরকারি স্তর থেকেও বারবার চিনকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

যদিও ভারত-চিন সংঘাতের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, ‘দুই দেশ (ভারত-চিন) বাংলাদেশের খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা তাই দুই দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাইছি। উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি।’ কিন্তু এই বক্তব্য যে কূটনৈতিকভাবে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা, তা স্পষ্ট। তবে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হলে তা অনেক দেশের কাছেই অস্বস্তির বিষয় হবে। এর আগেই তার প্রমাণ মিলেছিল। চিনের লগ্নিতে চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। বেজিং তাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েও দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ই আমেরিকা, জাপান এবং ভারত চাপ তৈরি করে ঢাকার উপর। বাধ্য হয়ে চিনের সাহায্য নেয়নি বাংলাদেশ। যদিও তার পরিবর্তে জাপান ওই প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ায়।

বস্তুত সীমান্ত নিয়ে জেরবার অবস্থা ভারতের। পাকিস্তানকে নিয়ে নতুন করে কিছুর বলার নেই। চিনের ‘ছায়া’ পাকিস্তান বরাবরই ভারতকে বিরক্ত করে চলে। চিনের ঋণের ফাঁদে পা দিয়েছে শ্রীলঙ্কাও। নেপালের সঙ্গেও ভারতের ইদানীং সম্পর্ক তলানিতে। জল বন্ধ করেছে ভুটানও। মলদ্বীপের সঙ্গে আগের সম্পর্ক আর নেই। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। সেই প্রতিবেশীই যেন কোনওভাবে ‘শত্রুপক্ষের’ সঙ্গে হাত না মেলায়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com