ArabicBengaliEnglishHindi

কালিয়াকৈর অবৈধ ক্লিনিকে ছড়াছড়ি


প্রকাশের সময় : জুন ২৭, ২০২২, ৯:০৩ অপরাহ্ন / ১০৫
কালিয়াকৈর অবৈধ ক্লিনিকে ছড়াছড়ি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি ->>
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে অবৈধ ক্লিনিকগুলো বন্ধে সারা দেশে অভিযান চালালেও গাজীপুরের কালিয়াকৈর তেমন কােনাে তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে বাসা/মার্কেট ভাড়া নিয়ে রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাছে এসব অবৈধ ক্লিনিকের মালিকরা। এসব ক্লিনিকের মালিক-কর্মচারীদের রােসানলে পড়ছেন রােগীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছে বৈধ ক্লিনিকের মালিক, ভুক্তভাগী রােগী ও তাদের স্বজনরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈধ ক্লিনিক মালিক, রােগী ও তাদের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় মাত্র ছয়টা ক্লিনিকের বৈধতা থাকলেও সেগুলার প্রয়াজনীয় বেশিরভাগ কাগজপত্রের নবায়ন নেই।

ওই সরকারী হাসপাতালের সংশিস্টদের সাথে আতাত মাধ্যম চলছে প্রায় ৩০/৩২টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এগুলার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডগায় মাত্র ৪০গজ সামনে ডিজিল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

কালিয়াকৈর বাইপাস সাহেব বাজার এলাকায় ন্যাশনাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেওয়াল ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিকদার মেডিকেল সেন্টার, ট্‌্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় রােমাইছা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাস টার্মিনাল পশ্চিম পাশে রাবেয়া ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চান্দরা ত্রিমােড় এলাকায় এ্যাপালা হাসপাতাল ও মুইন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পল্লীবিদ্যু এলাকায় জীবন জেনারেল হসপিটাল, মৌচাক পপুলার ও সুফিয়া হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া বাজার । এছাড়াও ব্যাঙর ছাতার মতাে গড়ে উঠেছে আরো অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও ডেন্টাল ক্লিনিক।

এসব ক্লিনিক রক্ত, কফ, মলমূত্র, এক্স-রে, আলট্রাসনাগ্রামসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । এ কারণে প্রতিনিয়ত নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে রােগী ও তাদের স্বজনরা। কখনাে কখনাে ভুল চিকিৎসায় রােগীর মৃত্যুর অভিযাগ পাওয়া যাচ্ছে ।

আবার কখনো কখনো নার্স দিয়ে মহিলাদের ডেলিভারির অপারেশন করানোর অভিযােগ রয়েছে এছাড়াও সরকারি হাসপাতাল অনেক ডাক্তার অফিস ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ক্লিনিক গুলাতে গিয়ে রােগী দেখছেন এবং অপারেশন করছে। এ সুযােগে রােগী ও স্বজনদের কাছ থেকে গলাকাটা অর্থ আদায় করে নিচ্ছেন এসব অবৈধ ক্লিনিকগুলার মালিকরা। ওই টাকার ভাগ যাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটেও। গত ২৬ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিত সারা দেশে সকল অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘন্টার মধ্য বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সারা দেশে অভিযান চালালও অজ্ঞাত কারণে কালিয়াকৈর অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ প্রশাসনের কানা তৎপরতা দেখা যায়নি।

উপজলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আল বেলাল জানান, এখান প্রায় ৩০/৩২টি অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এদের মধ্য ৯টি বন্ধ করা হলেও আবার কিভাব চালু হল? তা আমার জানা নেই। তবে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিষয় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, কয়টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, সেগুলার সঠিক তালিকা আমার কাছ হস্তান্তর করেনি। সঠিক তালিকা নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি অভিযান পরিচালনা করা হবে।