ArabicBengaliEnglishHindi

প্রধানমন্ত্রীর কথিত ভাগ্নে পরিচয় দানকারী কে এই সজল?


প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২২, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন / ১৪৫
প্রধানমন্ত্রীর কথিত ভাগ্নে পরিচয় দানকারী কে এই সজল?

নিজস্ব প্রতিবেদক ->>
প্রধানমন্ত্রীর কথিত ভাগ্নে সজল,কোথায় নেই এই প্রতারক নীড কার্ড, অফিস, নির্বাচন অফিস ও পাসপোর্ট অফিস ও সরকারি কোভিড টিকা দেওয়া হতে শুরু করে সর্বত্র তার একছত্র কাজ কারবার নগদ টাকার বিনিময়ে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর থানাধীন তালবাড়িয়া ইউনিয়নের পারভেজ রুবেল সজল। যে কিনা নিজেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আপন ভাগ্নে পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সরকারের সবচেয়ে স্পর্শ কাতর প্রতিষ্টান, জাতীয় পরিচয় পত্র বা নীডকার্ড অফিসে।

নির্বাচন অফিসে, পাসপোর্ট অফিসে। এমন কি দেশের করোনা কালীন সময়ে মানুষ যখন দিয়ে হারা করোনা টিকার জন্য তখন সে পরিচিত জনদের নিকট প্রস্তাব দিতে থাকলো টিকা যদি আগে দিতে চান তাহলে তার মাধ্যমে দিলে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিউটের তৃতীয় তলায় ভিআইপি ক্যাটাগরিতে সম্পুর্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বুথে কোনো রকম লাইনে দাড়ানো ব্যাথিত অবস্হায় টিকা দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এতে অনেকে সম্মত হলে মোট এক জায়গা হতে মোট ২০ জনকে টিকার আবেদন করিয়ে মাথা পিছু ১০ হাজার টাকা নেয়।

নীড কার্ড সংশোধন বা নতুন নামে অথবা নীড কার্ডের যে কোনো সমস্যায় সে হাজির। এক এলাকা পল্লবীর কয়েকটি পরিবারের নীড কার্ড সংশোধন করিয়ে দিতে ৫০ হাজার হতে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সে নেয়। প্রথমে বলে এই কাগজ, সেই কাগজ জোগাড় করতে। তারপর অনলাইনে আবেদন জমা করিয়েই শুরু হয় তার আসল বানিজ্য।

দেখায় নানান সমস্যা, বাড়তে থাকে টাকার অংক। যে ব্যাক্তই তার ফাঁদে পড়েছে — সেই মোটা অংকের আক্কেল সেলামি দিয়ে তবে নীর্ড কার্ডের ফটো কপি হাতে পায়। হয়রানির শিকার হয়ে এবং জরুরী প্রয়োজনে দ্রুত পেতে সবাই তার চাহিদা মতো টাকা প্রদান করে তবেই রেহাই পেয়েছে।

এরপর পরের অধ্যায় হলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন, নীড কার্ডের অফিসে যাতায়াতের সুবাদে একাধিক কর্মকর্তার সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে উঠেছে।

এই সুবাদে তার নিজ জেলা কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে ৫ নং নন্দলালপুর ইউনিয়নের জিয়াউর রহমান খোকনকে নির্বাচন অফিস কতৃক অগ্রীম নিদিষ্ট মার্কা পাইয়ে দেয়, যেটা কিনা ছিল মোটরসাইকেল।

এই জিয়াউর রহমান খোকন আগের নির্বাচনে এই মার্কা নিয়ে হেরেছিল নৌকার প্রার্থীর কাছে। তাই সতন্ত্র প্রার্থী খোকনের জেদ চাপে এই মোটর সাইকেল মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবে এবং যে কোনো মুল্যে বিনিময়ে নৌকার প্রার্থীকে হারাবে, এবং সেই মোতাবেক নৌকার ৩ বারের সফল চেয়ারম্যান নওশের আলী বিশ্বাস ১০ হাজার ভোটের বিনিময়ে উপরে সতন্ত্র ( ভিতরে জামাত,) জিয়াউর রহমান খোকন জিতে যায়।

এই সজল দ্বারা অগ্রীম মোটর সাইকেল মার্কা বরাদ্দ করানোর প্রমান আমাদের সাংবাদিদের হাতে বিদ্যমান। নির্বাচন হয়েছে ২৬শে ডিসেম্বর ২০২১। আর মার্কা বরাদ্দ করিয়েছে ৭ ই ডিসেম্বর ২০২১.. আর অন্য প্রর্থীরা মার্কা পাওয়ার আগেই সতন্ত্র প্রার্থী লেমেনেটিং পোষ্টার ছাপিয়ে, শত শত মোটর সাইকেল নিয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহরে চক্কর দেয়। যেটার দীর্ঘতা ছিল ৪ কিলোমিটার।

যার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। এখানে যে বিষয় কুষ্টিয়ার সচেতন মহল ও মানুষের মুখে মুখে ফিরছে — কে এই রুনেল পারভেজ সজল? কোথায় তার ক্ষমতার উৎস! কুষ্টিয়াতে বাড়ি অথচ প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নে হয় কি ভাবে? শ্বশুর বাড়ি বগুড়ার সদরে। কয়েকমাস পূর্বে ধুমধামে সাথে মেয়ের বিয়ে দিয়েছে। এই সজল দাবী করে গত নির্বাচনে ইনুকে মাইনাস করিয়েছে সে, সামনের জাতীয় নির্বাচন করবে এমপি পদে। প্রধানমন্ত্রী নাকি তাকে কথা দিয়েছে।

সরকারের সবগুলো গোয়েন্দা সংস্হা যখন নীড কার্ড নিয়ে বিভন্ন রকম ঝামেলায় জর্জরিত– তখন মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর কথিত ভাগ্নে কি ভাবে নীড কার্ড টাকার বিনিময়ে মানুষকে বানিয়ে দিচ্ছে।