ArabicBengaliEnglishHindi

অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে নীতিমালার অভাবে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে দুর্ঘটনা


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৩, ৯:৪৬ অপরাহ্ন / ৭৭
অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে নীতিমালার অভাবে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ->>
জরুরি চিকিৎসার লক্ষ্যে রোগী পরিবহনের যানই অ্যাম্বুল্যান্স হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসা সেবার কাজে ব্যবহার হলেও অ্যাম্বুল্যান্স একটি বাণিজ্যিক পরিবহন।

জনগুরুত্বপূর্ণ বাহনটির জন্য আলাদা নীতিমালা জরুরি হলেও দেশে তা নেই। ফলে প্রতিবছর যে পরিমাণ ব্যক্তিগত গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ছে তার চেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় পড়ছে অ্যাম্বুল্যান্স। অথচ সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো নথিতে, সড়ক পরিবহন আইন, সড়ক পরিবহন বিধিমালায়ও নেই অ্যাম্বুল্যান্সের সংজ্ঞা। ট্রাফিক আইনেও অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। কোনো ধরনের নীতিমালা ছাড়াই বিশেষ এই বাহনটি সড়কে চলাচল করছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সম্প্রতি ঢাকাণ্ডমাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুর অংশে দুর্ঘটনায় পড়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্সটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়ে সাত জন মারা যায়। পরে অ্যাম্বুল্যান্সটির চালকও মারা যায়। একইভাবে খুলনা থেকে রোগী নিয়ে ঢাকা আসার পথে গোপালগঞ্জে দুর্ঘটনায় পড়ে আরেকটি অ্যাম্বুল্যান্স। ওই ঘটনায় রোগী-চালকসহ চারজন মারা যান। অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অথচ নীতিমালা তৈরি হলে অ্যাম্বুল্যান্সের সংজ্ঞা যেমন স্পষ্ট হবে, তেমনি এর গঠন, ধরন ও বিশিষ্ট্যে ছাড় পাওয়ারও সুযোগ থাকবে না।

অ্যাম্বুল্যান্সের মালিকানায় কারা থাকবেন, ব্যক্তি মালিকানায় অ্যাম্বুল্যান্স চলতে পারবে কি না, এই বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে। আর অ্যাম্বুল্যান্সের মানভেদে ভাড়াও নির্ধারণ করে দিতে পারবে সরকার। সূত্র জানায়, সারা দেশে নিবন্ধিত অ্যাম্বুল্যান্স আছে ৮ হাজার ২৮৭টি। অ্যাম্বুল্যান্স নিবন্ধনের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। আর বিআরটিএর নিবন্ধন ছাড়া চলছে চার হাজার ২১৩টি অ্যাম্বুল্যান্স, যা মোট অ্যাম্বুল্যান্সের ৩৩.৭০ শতাংশ। ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুল্যান্স মালিক সমবায় সমিতির তথ্য মতে, বিভিন্ন সমিতির আওতায় দেশে প্রায় ১০ হাজার বৈধ অ্যাম্বুল্যান্স চলাচল করছে। এর বাইরে ব্যক্তি মালিকানাধীন আরো প্রায় দুই হাজার ৫০০টি অ্যাম্বুল্যান্স চলাচল করছে। সমিতি এসব অ্যাম্বুল্যান্সকে অবৈধ বলছে। সমিতিও চায় অ্যাম্বুল্যান্স নীতিমালা হোক। কারণ অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য বিশেষ চালক তৈরি করতে বর্তমানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। মাইক্রোবাসের চালকরাই মূলত অ্যাম্বুল্যান্স চালাচ্ছে।

নীতিমালা হলে এসব কিছু একটা শৃঙ্খলায় ফিরবে। সূত্র আরো জানায়, দেশের ৯০ শতাংশ অ্যাম্বুল্যান্স মাইক্রোবাস থেকে রূপান্তর করা। প্রকৃত অ্যাম্বুল্যান্সের দাম মাইক্রোবাসের চেয়ে তিন গুণ বেশি হওয়ায় অ্যাম্বুল্যান্স আমদানি করা হচ্ছে না। আবার কর ফাঁকি দিতে মাইক্রোবাস কিনে অ্যাম্বুল্যান্স বানিয়ে আমদানি করা হচ্ছে। এভাবে রূপান্তর করেই দেশে অ্যাম্বুল্যান্স আমদানি করা হয়। আর দেশে অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে শিডিউলবিহীন গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন না মানা এবং অপ্রশিক্ষিত চালক। পুলিশকে কখনো অ্যাম্বুল্যান্স চালকের লাইসেন্স চেক করতে দেখা যায় না। অ্যাম্বুল্যান্সের দোহাই দিয়ে খালি অ্যাম্বুল্যান্স উল্টো পথেও চলে। অ্যাম্বুল্যান্সও একটি পরিবহন। এটি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। জীবন বাঁচানোর এই বাহনটি জীবন কেড়ে নেওয়ার যানে পরিণত হওয়া ঠিক নয়। বহু আগেই এর জন্য নীতিমালা করা দরকার ছিল।

এদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার জানান, ‘সড়ক পরিবহন বিধিমালায় অ্যাম্বুল্যান্সের সংজ্ঞা না থাকলেও এই পরিবহনের আলাদা একটা বাণিজ্যিক ধরন রয়েছে। অনেকে মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুল্যান্স বানিয়ে নিচ্ছে। এই বিষয়গুলো নজরদারির আওতায় আনা জরুরি। অ্যাম্বুল্যান্স একটি বিশেষায়িত পরিবহন। জরুরি সেবাকাজে ব্যবহার করা হলেও এর বাণিজ্যিক দিক আছে। এ কারণে এর জন্য নীতিমালা দরকার। এর জন্য আমরা একটি কমিটি করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য আগামী দুই মাসের মধ্যে অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা।