ArabicBengaliEnglishHindi

কালিয়াকৈর সরকারী স্কুলে অবৈধভাবে কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের রমরমা বানিজ্য


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৩, ২০২২, ৬:৩০ অপরাহ্ন / ৫০
কালিয়াকৈর সরকারী স্কুলে অবৈধভাবে কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের রমরমা বানিজ্য

কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধি ->>
গাজীপুরের কালিয়াকৈর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে একমাত্র সরকারী হাই স্কুলের ভিতর বছরের পর বছর ধরে চলছে অবৈধএকটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুল । শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে গলাকাটা অর্থও। সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ কয়েকজন মিলে ওই কিন্ডারগার্ডেন রমরমা বাণিজ্য চালাছেন বলে অভিযােগ উঠছে। এত তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছেন স্থানীয় লােকজন।

 

মসজিদ নির্মাণ কাজে আর্থিক সাহায্যের আবেদন

 

এলাকাবাসী, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী-অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারী হাই স্কুলের ভিতর এমন ঘটনা ঘটছে। গত ১৯৯৮ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১০ সালে এটা এমপিও ভুক্ত করণ করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে জাতির পিতার নামে এ স্কুলটি সরকারী করণ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার। অতিরিক্ত লাভের আশায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনদ কুমার দাস ও সহকারী শিক্ষক বশির উদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্কুলটি নামে আরকটি কিন্ডারগার্ডেন খুলেন। গত ২০০৫ সাল থেকে সরকারী হাই স্কুলের ভিতরই অবৈধভাবে কিন্ডারগার্ডেন স্কুলটি চলছে।

হাটিহাটি পা পা করে জাতির পিতার নাম ওই হাই স্কুলটি এমপিও ভুক্ত ও সরকারী করণ করা হলেও সরানাে হয়নি অবৈধ কিন্ডারগার্ডেনটি। এত ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার একমাত্র সরকারী হাই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম। এরপরও বছরের পর বছর ধরে ওই সরকারী স্কুলের ভিতর অবৈধভাবে কিন্ডারগার্ডেনটি পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের আরা আকর্ষণ বাড়াতে স্কুলের সমস্ত কিছু অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই সরকারী হাই স্কুলের নাম ও মনােগ্রাম।অদক্ষ ছয়জন শিক্ষকদিয়ে কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষা কার্যক্রম চালানাে হচ্ছে।

কিন্ডার গার্ডেনের আর্থিক হিসাব-নিকাশ দখন ওই সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনদ কুমার দাস। বর্তমান ওই কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে প্রায় ২৫০ শিক্ষাথী আছে। তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে মোট ৭৫ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও ভর্তি ফি বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফি বাবদ প্রতি বছর ৫০০ টাকা করে মােট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আদায় করে কিন্ডারগার্ডেন কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের গলাকাটা ওই টাকার ভাগ যাচ্ছে ওই সরকারী স্কুলেরপ্রধান শিক্ষক আনদ কুমার দাস, সহকারী শিক্ষক বশির উদ্দিনসহ কয়েকজন সরকারী সহকারী শিক্ষকের পকেটেও।

স্থানীয়দের অভিযােগ, সরকারী স্কুলের ভিতর কখনাে অবৈধভাবে কিন্ডারগার্ডেন স্কুল চলতে পার না। তার উপর জাতির পিতার নামে সরকারী হাই স্কুল। সরকারী স্কুলের শিক্ষকরা কিভাবে ওই কিন্ডারগার্ডেন স্কুল চালাছেন? সরকারী বেতন-ভাতাসহ বিভিন সুবিধা পেলেও তারা অবৈধ কিন্ডারগার্ডেনের অর্থ ভাগভাটড়া করে নিছেন।

একই টেইলার্সে স্কুল ড্রেস বানানাের ফলে সাল্ডার একই হয়ছে স্বীকার করে ওই কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা বেগম, হাসনা আরা, রেবেকা সুলতানা, শারমিন বেগম, দীপালী রায় জানান, যখন হাই স্কুলটি বেসরকারী ছিল তখন থেকে কিন্ডারগার্ডেনটি চালু। এমপিও ভুক্ত এবং সরকারী করণ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বন্ধ না করায় কিন্ডারগার্ডনটি এখনাে চলছে।

এ ব্যাপার ওই সরকারী হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক বশির উদ্দিন জানান, ওই স্কুলটি আগে থেকে চলছে। এখন স্টাফ সরকারী প্রাথমিক স্কুল বানানাের চেষ্টা চলছে। ওই সরকারী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনদ কুমার দাস জানান, এ হাই স্কুলটি সরকারী করণ হওয়ার আগ থেকে ওই স্কুলটি চলছে। জাতির পিতার নাম ওই স্কুলটি হওয়ায় আমরাও আর কিছু বলি নাই। এছাড়া ওই স্কুলের হিসাব-নিকাশ রাখলেও সেখান থেকে কোনো টাকা-পয়সা আমরা রাখি না। তবে উনারা আমাদের সরকারী স্কুলের ক্যাম্পাস ব্যবহার করছেন।

উপজলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির মালস্না জানান, সরকারী স্কুলের ভিতর কিন্ডারগার্ডন স্কুল আছে, সেটা আমার জানা নাই। তবে সরকারী স্কুলের ভিতর কিন্ডারগার্ডেন স্কুল থাকার কােনাে সুযােগ নেই।
এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, সরকারী স্কুলের ভিতর কিন্ডারগার্ডন স্কুল চলানাের বিষয়টি জানা ছিল না। তবে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।