ArabicBengaliEnglishHindi

জাগতিক পাপমুক্তি ও পূণ্যলাভের স্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হল শ্রী কৃষ্ণের রাস-মেলা


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৮, ২০২২, ১০:৩২ অপরাহ্ন / ২১৬
জাগতিক পাপমুক্তি ও পূণ্যলাভের স্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হল শ্রী কৃষ্ণের রাস-মেলা

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ->>

মোমবাতি, আগরবাতি, বেল পাতা, ফুল, ধান, দুর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল ও সিঁদুর সমুর্দ্রের জলে অর্পন করে গঙ্গাস্নান বা পূণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শেষ হয়েছে শ্রী কৃষ্ণের রাস-মেলার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

মঙ্গলবার ভোর ৫ টা ৩০ মিনিটে জাগতিক সকল পাপ মোচনের আশায় সৈকতের নোনা জলে গাঁ গঙ্গাস্নান সম্পন্নের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ অনুষ্ঠিানিকতা। এসময় উলুধ্বনি ও মন্ত্রোপাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সৈকত। মাথা ন্যাড়াসহ প্রায়শ্চিত্ত ও পিন্ডদান করেন অনেক
মানতকারীরা। পরে ১৭ জোড়া যুগল প্রতিমা দর্শন করেন হিন্দুধর্মালম্বীরা। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কুয়াকাটায় রাসলীলা শেষ হলেও কলাপাড়ার শ্রী শ্রী মদনমোহন সেবাশ্রমে এ উৎসব চলবে আরও ৫ দিন। হিন্দু ধর্মমতে, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর শ্রীকৃষ্ণ পাপমোচন ও পূর্ণলাভে গঙ্গাস্নানের স্বপ্নাদেশ পান। এই থেকেই শুরু হয় ‘রাস মেলা’।

অন্য মতালম্বীদের মতে, দুর্গাপুজোর পর পূর্ণিমায় বৃন্দাবনবাসী গোপীদের সঙ্গে লীলায় মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই থেকে কার্তিকের শুক্লাপক্ষের ভরা পূর্নিমায় পালিত হয়ে আসছে শ্রী কৃষ্ণের ‘রাস-লীলা’। তবে মতভেদ যাই থাকুক, শত বছর ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শ্রী কৃষ্ণের উৎসব। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কার্তিকের পূর্নিমা তিথিতে কুয়াকাটায় সতের জোড়া যুগল প্রতিমা দর্শন আর অধিবাসের মধ্য দিয়ে রবিবার রাতেই শুরু হয়েছে রাস-মেলার আনুষ্ঠানিকতা। এসময় শাক, উলুধ্বনি এবং নামকৃর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে কুয়াকাটা রাধা-কৃষ্ণ মন্দির ও কলাপাড়া মদনমোহন সেবাশ্রম প্রাঙ্গন।

সোমবার রাতভর নামকীর্তন, ধার্মীয়
আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার প্রত্যুশের আলো ফোটার আগেই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গঙ্গাস্নান করবে কৃষ্ণ ভক্ত ও পূণ্যার্থীরা। এসময়
পুণ্যার্থীদের প্রার্থনা আরাধনায় সরব হয়ে উঠবে চন্দ্রিমার আলোকমালায় শোভিত নীরব সৈকত। জীবাত্নার সাথে পরমাত্নার মিলনের প্রতিবছরের এ উৎসবে গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে পাপমোচনসহ মনোস্ককামনা পূর্ণ করবে
এমন প্রত্যাশা শ্রী কৃষ্ণের ভক্ত, পূণ্যার্থীদের।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। সকল ধর্মের এসব মানুষের উপস্থিতে প্রতিবছর এ মেলা পরিনত হয় সার্বজনীন উৎসবে। কুয়াকাটা রাখাইন মাঠের মঞ্চে রাতে সংগীত পরিবেশন করে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা। রাস উৎসবকে ঘিরে বসেছে কুয়াকাটা সৈকতে বাহারী পন্যের ভাসমান দোকানের পসরা। ভাসমান দোকানীরা জানান, বেচাবিক্রি আশানুরূপ হয়েছে। এখন কলাপাড়া মদনমোহন সেবাশ্রম প্রাঙ্গন মেলায়
দোকান।

মতুয়া মিশন রাস উৎসব’র আয়োজক অনন্ত মুখার্জী বলেন, উৎসবে আগত ৫ হাজার বক্তের থাকা-খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। একই আয়োজন ছিল কুয়াকাটা সৈকতের শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে। রাস-মেলা উৎসব কমিটি সাধারন সম্পাদক নিহার রঞ্জন সুচারুরূপে আয়োজন সম্পন্ন হওয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন
প্রশাসনসহ ভক্স-পণ্যর্থীদের প্রতি।

কুয়কাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসেশিয়েসন’র সেক্রেটারী জেনারেল মোতালেব শরীফ বলেন, করোনার কারনে দুই বছরের বিরতির পর এবার উৎসবকে ঘিরে বইছে নতুন এক উম্মাদনা। মেলায় আগত ভক্ত-পূন্যার্থীদের সেবায় প্রস্তত কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসেশিয়েসন।
আয়োজক, প্রশাসনের সাথে এক হয়ে এসব পূণ্যার্থীদের থাকার ব্যবস্তা করা হয়েছে।

এদিকে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রাস-মেলা সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন’র সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল খালেক বলেন, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগসহ আনসার বাহিনীর সদস্যের দ্বারারনিছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে মন্দির, মেলা প্রঙ্গন, সৈকতসহ আশেপাশের সকল দর্শণীয় এলাকা।