ArabicBengaliEnglishHindi

ডিমলায় ভালোবেসে বিয়ে, যৌতুক দিতে না পারায় কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ৮:৪৮ অপরাহ্ন / ৯৫
ডিমলায় ভালোবেসে বিয়ে, যৌতুক দিতে না পারায় কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

ডিমলা(নীলফামারী)প্রতিনিধি ->>
যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় নীলফামারীর ডিমলায় দুলালী আকতার (২১) নামের এক কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।শনিবার দুপুরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কাকড়া এলাকার মৃত তফছের আলীর মেয়ে দুলালি আকতার। আর নাউতারা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকড়া গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে বাবুল হোসেন। তারা ৬ মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক করে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দুলালি রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজ ও বাবুল রংপুর কারমাইকেল কলেজে সম্মান শ্রেণিতে লেখাপড়া করতেন।
প্রায় ২ বছর আগে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রংপুরের একটি কাজী অফিসে ২০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে দুলালি ও বাবুল বিয়ে করেন। এ সময় বিয়ের বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানানোর জন্য দুলালিকে চাপ দেন বাবুল।

বিয়ের ৬ মাস পার হলেও বিষয়টি কাউকে জানাননি দুলালি । কিন্তু বাবুলের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন দুলালি। কিন্তু দুলালির কথায় রাজি না হয়ে তাকে ঘরে তুলতে মোটা অংকের যৌতুক দাবি করেন বাবুল।পরে বিষয়টি জানাজানি হলে দুলালির পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বাবুল ও তার পরিবার।
দুলালির বড় ভাই জমসের আলী জানান,এ বিষয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়। এক পর্যায়ে ৮ লক্ষ টাকা যৌতুক দিতে রাজি হই।কিন্তু বাবুল ও তার পরিবার ১৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করায় কোনো প্রকার সমঝোতা হয়নি।

এতো টাকা দিতে না চাইলে দুলালিকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে না তুলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন স্বামী বাবুল। পরে এই নির্যাতন সইতে না পেরে কলেজ ছাত্রী দুলালি নিজ বাড়িতে শুক্রবার রাতে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেন।পরে পরিবারের লোকজন বুঝতে পেরে বিষয়টি ডিমলা থানায় অবহিত করেন।

এ ব্যাপারে বাবুলের বড়ভাই মহিকুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,দুলালি তার পারিবারিক কারনে আত্মহত্যা করেছেন। আমরা কখনও যৌতুকের জন্য চাপ দেই নাই।

এ ব্যাপারে ডিমলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বদেব রায় জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।