ArabicBengaliEnglishHindi

তথ্য সৈনিক আশারফ হোসেন


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩০, ২০২২, ৪:১৬ অপরাহ্ন / ৮৯
তথ্য সৈনিক আশারফ হোসেন

আবু জাফর বিশ্বাস ->>

সরকারী/বেসরকারি সমস্ত দপ্তরের ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এক মূর্তিমান আতঙ্ক, বহুল আলোচিত তথ্য সৈনিক আশারফ হোসেন (আশা)! তিনি দীর্ঘদিন ধরে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের লক্ষে একাই চৌগাছায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে তথ্য চেয়ে বেড়ান। কেউ তথ্য দিতে না চাইলে বা কোনো অনিয়ম দেখলে তথ্য অধিকার কমিশনে অভিযোগ করে জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাঁড় করান। যার ফলশ্রুতিতে উপজেলার সরকারী/বেসরকারি সব দপ্তরে অনেকটাই দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে বলে এলাকার মানুষ মনে করেন। তাই গোটা উপজেলায় এবং দেশের মধ্যেও তিনি তথ্য সৈনিক হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশ টেলিভিশনের চেনা-জানা অনুষ্ঠানে তার সাক্ষাতকার প্রচার হয়েছে, অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রামেন্দ্র মজুমদার। ডি.বি.সি-তেও সরাসরি সাক্ষাতকার প্রচার হয়েছে। এমন অনেক মিডিয়া গণমাধ্যমে তিনি সাক্ষাতকার দিয়ে থাকেন। এছাড়াও মানবাধিকার, দুর্নীতি প্রতিরোধ রেলি-সমাবেশও তিনি প্রথম সারিতে উপস্থিত থাকেন। গ্রামের কৃষক পরিবারে ধুলো-কাদা মেখে বড় হওয়া, লুঙ্গি পরা গামছা কাঁধে এই মানুষটি আশারফ হোসেন (আশা)। তার আশা স্বাধীনতার প্রবেশদ্বার গৌরবগাঁথা চৌগাছার হাসপাতাল, ভূমি অফিস সহ সমস্ত দপ্তরকে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করবেন, তারপর জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।

আশারফ হোসেন, উপজেলার জামালতা গ্রামে কৃষক পরিবারে তার জন্ম, পিতা মৃত আব্দুল খালেক। তিনি সর্বপ্রথম বেসরকারি সংস্থা ‘এমআরডিআই’ থেকে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর পর থেকে তিনি তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমার চোখ খুলে দিয়েছে উক্ত বে-সরকারি সংগঠন ‘ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (এমআরডিআই) সংস্থা। এই সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সেবা সম্পর্কে জানতে পারি। ২০১৫ সাল থেকে তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে মাঠে নেমে কাজ করছি। তিনি যেখানেই দুর্নীতির গন্ধ পান সেখানেই সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে দরখাস্ত করেন। তথ্য অধিকার আইন তার আদ্যপান্ত মুখস্ত। কিভাবে আবেদন করতে হয়, আপিল করতে হয়, কত কার্যদিবসে আইনের মধ্যে থেকে তথ্য পাওয়া সম্ভব সবকিছু তার নখদর্পণে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে নিজ খরচে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করছেন বলে জানা গেছে। মাইকে বলা হয়েছে- ”ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কেউ সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দিবেন না, যেকোনো সরকারি অফিসে সেবা পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, তাই কেউ কাজের জন্য ঘুষের টাকা দিবেন না, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে সরকার তথ্য অধিকার আইন তৈরি করেছে, এই আইন জনগণের আইন।” তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে তাঁর সাহসী প্রচেষ্টা গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার মানুষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বর্তমান তিনি চৌগাছার শিক্ষক সাহিত্যিক ও সুধীজনদের নিয়ে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট চৌগাছায় তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেছেন। এ উপলক্ষে গত ১৩ জানুয়ারি ২০২২ প্রেসক্লাব চৌগাছা কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ড. এম মোস্তানিছুর রহমান। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমিজ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন চৌগাছা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাহিদুর রহমান বকুল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহানুর আলম উজ্জ্বল এবং নবগঠিত কমিটির সভাপতি তথ্য সৈনিক আশারফ হোসেন আশা।
তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা হলেন- উপদেষ্টামন্ডলী জাহিদুর রহমান বকুল, রফিকুল ইসলাম ও ইয়াকুব আলী। সভাপতি আশারফ হোসেন আশা, সহসভাপতি তমিজ উদ্দীন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার গোলাম মোস্তফা। যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। নির্বাহী সদস্য আবু জাফর বিশ্বাস, রেজাউল হক, মতিয়ার রহমান, নুুরুন নবী, মুন্সি সাগর, ডাক্তার জয়নুর রহমান, আতিয়ার রহমান মল্লিক, শাহীন আলম, রাসেল আশরাফ, বিএম বাকিবিল্লাহ, মোছা. ইসমেতারা খাতুন, এহসান জামিল এবং হাসান মাহমুদ।