ArabicBengaliEnglishHindi

তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ভোট  কারচুপি: পুনরায় গণণার দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২২, ৩:২১ অপরাহ্ন / ১৪০
তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ভোট  কারচুপি: পুনরায় গণণার দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ

শাহ আলম->>

সপ্তমধাপে গত (৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার) অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নে ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।  উপজেলা উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের চারটি কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণণার দাবি জানিয়ে   ওই ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আফতাব উদ্দিন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই সাথে ভোট গ্রহনে জাল ভোট প্রদান, ভোট গণণাকালে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউনূছপুর ভোটকেন্দ্র, ৫ নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া ভোটকেন্দ্র, ৭ নং ওয়ার্ডের লামাশ্রম ও ৮ নং ওয়ার্ডের বিন্নাকুলি ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত ব্যালট পেপার পুনরায় গণনার জন্য নির্বাচন কমিশন  ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন।

গত (১০ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার) জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর দেয়া লিখিত অভিযোগে চেয়ারম্যান প্রার্থী আফতাব উদ্দিন উল্লেখ করেন, সারা দেশের ন্যায় সপ্তমধাপে (৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার) জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের ১২টি কেন্দ্রেসহ উপজেলা সাত ইউনিয়নের ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে ওই দিন দুপুরের পর হতে কয়েকটি কেন্দ্রে ঘোড়া প্রতিকের প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের চারজন এজেন্ট, তাদের অনুচর, কেন্দ্রের ভেতরে- বাহিরে থাকা পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা প্রভাব বিস্তার করে সূকৌশলে একের পর এক জাল ভোট প্রদান থাকেন। পরে তা অনুধাবন করতে পেরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আফতাব উদ্দিন ওইসব ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারগণেতর কাছে তা বার বার আপক্তি জানানোরও পরও কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারগণ তার অভিযোগে কোন কর্ণপাত করেননি। শুধু তাই নয়! এভাবে বাদাঘাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউনূছপুর ভোটকেন্দ্র, ৫ নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া ভোটকেন্দ্র, ৭ নং ওয়ার্ডের লামাশ্রম ও প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের বাড়ির নিকটবর্তী ৮ নংওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র বিন্নাকুলিতে পেশীশক্তির প্রভাব খাঁটিয়ে জাল ভোট প্রদানের পরও পরাজয় আঁচ করতে পেরে ওই চারটি কেন্দ্রে ভোট গণণাকালে আমার আনারস প্রতিকের এজেন্টদের ভয় ভীতি দেখিয়ে আমার এজেন্টদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ওই চার ভোটকেন্দ্রে নৌকা ও আনারস প্রতিকের প্রাপ্ত ভোটের ব্যালট ঘোড়া প্রতিকের ব্যালটের সাথে একত্রিত করে সুকৌশলে সূক্ষ কারচুপির মাধ্যমে ভোট গণণা করে ফলাফাল ঘোষণা করানো হয়। এবং রাতে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে কারচুপির করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান সুজাত মিয়া ৪৫৬ ভোট পেয়েছেন দেখিয়ে জামানত হারা প্রার্থী ঘোষণা করানো হয় বলে লিখিত অভিযোগে বলা হয়।

চেয়ারম্যান প্রার্থী আফতাব উদ্দিন বলেন, এখানেই শেষ নয়, নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণণা শুরুর পর যখন ওই ইউনিয়নের ৮টি ভোটকেন্দ্র প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যায় ২০২৮ ভোটে আমার আনারস প্রতীক এগিয়ে ছিল ঘোড়া প্রতিকের চেয়ে। তখনই মোল্লাপাড়া, ইউনুছপুর, লামাশ্রম, ও প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থীর নিকটবর্তী বিন্নাকুলি ভোটকেন্দ্রে ভোট গণণায় জালিয়াতি ও কারচুপির মাধ্যমে আনারস প্রতিকের আট কেন্দ্রে ২০২৮ ভোটে এগিয়ে থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে উপরে উল্লেখিত ওই চারটি ভোটকেন্দ্রে আনারস প্রতীকের ২০২৮ বেশি পেয়ে এগিয়ে থাকার বিপরীতে ঘোড়া প্রতিকে ৩৪৭ ভোট বেশী দেখিয়ে ১১ হাজার ৫০৭ ভোট পেয়ে প্রতিদ্ধন্দবী ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজাম উদ্দিন নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করানো যায় । যেখানে আটটি ভোটকেন্দ্রে আমার আনারস প্রতিকের প্রাপ্ত ২৯২৮ ভোটে এগিয়ে ছিল সেখানে হঠাৎ করে ভোট গণণার সময় মোল্লাপাড়া, ইউনুছপুর, লামাশ্রম, ও বিন্নাকুলি ওই চার কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান করানোসহ আমার আনারস ও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রাপ্ত ভোট ব্যালট ঘোড়া প্রতিকের ব্যালটের সাথে একত্রিত করে সুক্ষ্য কারচুপির মাধ্যমে আমার আনারস প্রতিকের বিপরীতে ১২টি কেন্দ্রে ঘোড়া প্রতীকের মোট ১১-হাজার ১৬০-ভোট প্রাপ্তি দেখানো হয়। এবং ঘোড়া প্রতিকে ৩৪৭-ভোট বেশী প্রাপ্তি দেখিয়ে আমার  বিজয় কারচুপির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেয়া হয়। তাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউনূছপুর ভোটকেন্দ্র, ৫ নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া ভোটকেন্দ্র, ৭ নং ওয়ার্ডের লামাশ্রম ও প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের বাড়ির নিকটবর্তী ৮ নং ওয়ার্ডের বিন্নাকুলি ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত ব্যালট পেপার পুনরায় গণনার দাবি জানান। সেই সাথে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের দারস্থ্য হবেন বলেও জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আফতাব উদ্দিন ।

এ ব্যাপারে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রার্থী  নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন , নির্বাচনের ৫ দিন পর এমন অভিযোগ করলে কতটুকু যুক্তিসঙ্গত। নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল। নির্বাচনের দিনতো কেউ ভোট কারচুপি বা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করেনি। ভোট কারচুপি বা জালিয়াতি হলে ওইদিন করতে পারতো। পরাজয় হলেই কারচুপি আর জিতলেই অবাধ নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাছাড়া সরকারি বিধানে পুনরায় ভোট গনণার নিয় থাকলে তা যাচাই বাছাই করে প্রয়োজন হলে ভোট গনণা হবে।