ArabicBengaliEnglishHindi

নীলফামারীতে স্কুল শিক্ষকের ফাঁদে কলেজ ছাত্রী


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১১, ২০২২, ৬:৩৭ অপরাহ্ন / ৪২০
নীলফামারীতে স্কুল শিক্ষকের ফাঁদে কলেজ ছাত্রী

জিকে রউফ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ->>
বিয়ের প্রতিশ্রুতিসহ বিভিন্ন ধরণের প্রলোভনে আকৃষ্ট করে এক কলেজ ছাত্রীকে লালসার শিকার বানিয়ে গোপনে অভ্যন্তরিন ভিডিও ধারণ করে ওই ভিডিও ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন জেলার জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের দক্ষিণ পাইটকাপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কমলেন্দু রায়।

 

 

এ ঘটনায় লম্পট শিক্ষক কমলেন্দু রায়ের কবল থেকে মেয়েকে বাঁচাতে এবং ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে বিজ্ঞ আদালতের দারস্ত হয়েছেন
ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ পাইটকাপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কমলেন্দু রায় বিয়ের প্রতিশ্রুতিসহ বিভিন্ন ধরণের প্রলোভনে আকৃষ্ট করে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর সাথে অন্যায় প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে ওই কলেজ ছাত্রীর সাথে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করেন স্কুল শিক্ষক। পরে সেটি নিজের মোবাইল ফোনে গোপনে ভিডিও ধারণ করে লালসার শিকার বানিয়ে ওই ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন স্কুল শিক্ষক কমলেন্দু রায়।

কথা হলে, ভুক্তভোগী ছাত্রী জানায়, “দক্ষিণ পাইটকাপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির পর থেকেই আমাকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে স্কুল ছুটির পর ক্লাসরুমে থাকতে বলে ওই স্কুলের শিক্ষক কমলেন্দু রায়। ক্লাসরুম ফাকা থাকায় আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিসহ বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন তিনি। এক পর্যায়ে সে জোর করে আমাকে জড়িয়ে ধরে তার মোবাইলে ছবি তোলে এবং ওই ছবি ইন্টারনেটে
ছেড়ে দেয়ার কথা বলে ভয় দেখিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে।পরে গোপনে তোর মোবাইল ফোনে অভ্যন্তরিন ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ্য মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আমাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে।

 

মসজিদ নির্মাণ কাজে আর্থিক সাহায্যের আবেদন

 

ভুক্তয়োগী কলেজ ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার রায় বলেন, “আমার মেয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে সহকারী শিক্ষক কমলেন্দু রায় তাকে ফাঁদে ফেলেছে। সে আমার মেয়ের অভ্যন্তরীণ ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে দিনে দিনে আমার
মেয়েকে ধর্ষণ করে। আমি আমার মেয়েকে অভিযুক্ত শিক্ষক কমলেন্দু রায়ের হাত থেকে বাঁচতে চাই কারণ সে একজন নীল ছবি নির্মাতা। এখন আমরা আমাদের মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে হতাশায় পড়েছি।

“তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আমাদের হুমকি দেয় যে, যদি আমি তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার না করি তবে তিনি এই ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিবেন। যদিও, এই নীল ছবি নির্মাতা কমলেন্দু রায় এই ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে সম্প্রতি আমার মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছেন”।

এদিকে, “২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধীত/০৩) এর ৯(১) এবং তৎসহ ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফী আইনের ৮(১)(৩)(৭) ধারায় বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিমের বাবা দিলীপ রায়” বলেছেন নির্যাতিতার আইনজীবী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক কমলেন্দু রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রথমে সাংবাদিকদের সামনে ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করলেও, পরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

 

মসজিদ নির্মাণ কাজে আর্থিক সাহায্যের আবেদন

 

দক্ষিণ পাইটকাপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী শুসেন রায়ের সাথে কথা হলে, তিনি জানান, “ভুক্তভোগী পরিবার থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি।ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সহায়তায় বিষয়টি স্থানীয় ভাবে
সমাধানের চেষ্টা চলছে”।

বিষয়টি নিয়ে জলঢাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, “বিষয়টি আমি আগে আফসা আফসা শুনেছি। ভুক্তভোগীর বাবার মাধ্যমে একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

তবে, সহকারী শিক্ষক কমলেন্দু রায়ের ফাঁদে পড়ে কলেজ ছাত্রী তার সম্মান সহ সব হারিয়েছে। এখন তার ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে হতাশায় ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা। ফলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ও নীল ছবি নির্মাতা কমলেন্দু রায়ের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন নীলফামারীর সচেতন মানুষ।