ArabicBengaliEnglishHindi

নোয়াখালীতে বহুল আলোচিত প্রিয়তা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার


প্রকাশের সময় : মার্চ ৪, ২০২২, ১১:১৮ অপরাহ্ন / ১৫৭
নোয়াখালীতে বহুল আলোচিত প্রিয়তা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বহুল আলোচিত শিক্ষানবিশ নার্স। শাহনাজ পারভীন প্রিয়তা (২২)কে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার, মূল আসামি অটোরিকশাচালক রুবেলকে(২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রিয়তার ব্যবহৃত মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সুবর্ণচর উপজেলার চররশিদ এলাকা থেকে আসামি রুবেলকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে আজ (৪ মার্চ) দুপুর ১২:০০ সময় নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তিনি বলেন আসামি রুবেল এই ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার মূলহোতা। তাহার পরিকল্পনায় নিহত প্রিয়তাকে ধর্ষণ পরবর্তী  সংঘটিত হয়। আসামি রুবেল বসুরহাট পৌরসভা ৭ নং ওয়ার্ডের মকবুল আহমেদের পালক এর ছেলে। তার দীর্ঘদিন যাবৎ ভুক্তভোগী ওই নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি ছিল।  ঘটনার সময় শাহনাজ পারভীন প্রিয়তা হাসপাতালে ডিউটি শেষ করে তার নানা বাড়ি যাওয়ার জন্য ঘটনাক্রমে আসামি রুবেলের অটো রিক্সায় উঠে। আসামি রুবেল তাকে একটি নির্জন সড়কের মধ্য দিয়ে তার নানার বাড়ি যাওয়ার সহজ হবে বলে জানালে। নিহত প্রিয়তা অটো রিক্সা থেকে নেমে সোজা হাঁটা শুরু করে। পরক্ষণেই রুবেল পিছন দিক থেকে তাকে ধরে জবরদস্তি শুরু করে এবং মুখে ওড়না পেচিয়ে তাকে বেঁধে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এমতা অবস্থায় ভুক্তভোগী শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে, বলে আসামি প্রার্থমিক ভাবে স্বীকার করেছে বলে জানান। তিনি আরো বলেন বিচারিক আদালতের মাধ্যমে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হবে। রিমান্ড পরবর্তী সময়ে আরো আনুষাঙ্গিক যে তথ্যগুলো

প্রয়োজন সবগুলো হয়তো পাওয়া যাবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য যে গত 28 ফেব্রুয়ারি সকাল বেলায় বসুরহাট পৌরসভা ৭ নং ওয়ার্ডের ইয়াসিন মোল্লা বাড়ির পিছনে ধান ক্ষেতের মধ্যে এক তরুনীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় স্থানীয় জনতা পুলিশকে খবর দেয়।পরবর্তীতে লাশ উদ্ধার করার পর তার পরিচয় পাওয়া যায়। নিহত তরুণী কবিরহাটের নুরুন্নবী মেয়ে। সে বসুরহাট কলেজের ডিগ্রী বর্ষের ছাত্র। সংসারের অভাবের কারণে সে বসুরহাট একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে শিক্ষানবিস হিসেবে চাকরি করে বাবা-মাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন। পুলিশ তার লাশ উদ্ধারের পর তার পিতার বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই তরুণী হত্যার প্রতিবাদে নোয়াখালীর সর্বস্তরের জনগণ প্রতিবাদ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন সভা-সেমিনারে মাধ্যমে তার খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল।