ArabicBengaliEnglishHindi

বরিশালে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : জুন ২৭, ২০২২, ৭:২৪ অপরাহ্ন / ১৬১
বরিশালে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ

বরিশাল ব্যুরো অফিস ->>
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচরস্থ জবেদ আলী ইনিষ্টিটিউশনে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

যানা যায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খান তার পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে একেবারে গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রাসহ অভিভাবক এবং স্বয়ং স্কুল প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের সদস্যরা। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনে এ সকল বিষয় উল্ল্যেখ করে ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতনমহল বরিশালের বিভিন্ন দপ্তরে স্থানীয় এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ অপারেটর পদের জন্য একজন টেকনিশিয়ান এবং নৈশ প্রহরী পদের জন্য একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের জন্য স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ল্যাপটপ অপারেটর পদের জন্য পাঁচ জন প্রার্থী এবং নৈশ প্রহরী পদের জন্য আটজন প্রার্থী আবেদনপত্র দাখিল করেন।

ইন্টারভিউ কার্ড প্রাপ্তির পর ল্যাপটপ অপারেটর পদের জন্য ৫ জন এবং নৈশ প্রহরী পদের জন্য ৭ জন ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণের পাঁচ দিনের মাথায় প্রধান শিক্ষক বর্ণিত দুই পদে নিয়ম বহির্ভুতভাবে দুই জনকে যোগদান করান বলে অভিযোগ উঠে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসলে এ বিষয়ে তারা খোঁজ খবর নিয়ে নিয়োগে আর্থিক লেনদেন তথ্য পেয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্যেখ করা হয়।

এছাড়াও ঐ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে স্থানীয়দের কথা বলে জানা যায়, টেকনিশিয়ান এবং নৈশ প্রহরী পদের জন্য দুই জন নিয়োগের জন্য ৯ লাখ টাকা ঘুষের লেনদেন হয়েছে। টেকনিশিয়ান পদের জন্য ৫লাখ টাকা এবং নৈশ প্রহরী পদের জন্য ৪লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নিয়োগে ঘুষ বানিজ্যের বিষয়ে স্কুল কমিটির সাবেক সভাপতি সামিউল ইসলাম স্বপন বলেন,আমি দীর্ঘদিন যাবত স্কুল কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেছি আমার সময়ে আমি স্কুলে কোন দুর্নীতি হতে দেইনি। আমার পরিবার এই স্কুলের জন্য জমি দেয়া থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে সাহায্য করেছে শুধু স্কুলটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। ভাবতে অবাক লাগে আর সেই স্কুলে এখন দুর্নীতির আতুরঘর।

তিনি আরও বলেন,আমার পরে আমার ভাই মোঃ তাশরিকুল ইসলাম বর্তমান স্কুল কমিটির সভাপতির দায়ীত্বে রয়েছেন। তিনি বরিশালে থাকেন বরিশাল স্টেডিয়ামের একজন ক্রিকেট কোচ,তিনি স্কুলের প্রতি তেমন সময় না দেয়ায় পেধান শিক্ষক ইব্রাহিম খান স্কুলটাকে দুর্নীতি আখড়া বানিয়েছে। কথা হয় নৈশ প্রহরী পদের জন্য আবেদন করা মোঃ আফজাল হোসেনের পিতার সাথে তিনি বলেন, আমার ছেলের জন্য আবেদন করার পরে আমি প্রধান শিক্ষক ইব্রহীম স্যারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,চাকরি পেতে কিছু খরচা লাগতে পারে খরচাপাতি জোগার কইরা রাইখো।

পরে আমি ১লক্ষ টাকা লোন করি এবং বিভিন্ন যায়গা থেকে আরও ১লক্ষ টাকা জোগার করি। কিন্তু পরে শুনি বেশি টাকার বিনিময়ে অন্য কাউকে চাকরিটা দিয়ে দেয়া হইছে। এদিকে এসকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জবেদ আলী ইনিষ্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইব্রাহীম খান বলেন, আমার শিক্ষক জীবনের ২৮বছর পার করেছি।

এই ২৮ বছরের মধ্যে কেউ প্রমান করতে পারবেনা আমি কোনো দুর্নীতি করেছি। পিছনে বসে অনেকেই অনেক কিছু বলতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমি চলতি বছরের ১৬ই এপ্রিল সেরা শিক্ষক হিসেবে শের-ই বাংলা গোল্ড আওয়ার্ড পেয়েছি। আমি দায়ীত্ব নেয়ার পর এই স্কুলের কতটা উন্নয়ন হয়েছে তা আপনারা অনুসন্ধান করে দেখুন। আমার বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের যে অভিযোগ তলা হয়েছে সেইটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তিনি আরও বলেন, একটি গ্রুপ তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার বিরুদ্ধে লিফলেট ছাপিয়ে আমার মান ক্ষুন্ন করার চেস্টা করছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো।