ArabicBengaliEnglishHindi

বর্গীদের সরকার আওয়ামী লীগ: ফখরুল


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২২, ২০২২, ৮:৪৩ অপরাহ্ন / ৩৪
বর্গীদের সরকার আওয়ামী লীগ: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক ->>
আওয়ামী লীগকে বর্গীদের সরকার বলে আখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছোটবেলায় মায়েরা গান শোনাতেন, খোকা ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো, বর্গী এলো দেশে।

 

মসজিদ নির্মাণ কাজে আর্থিক সাহায্যের আবেদন

 

আজ এ সরকার বর্গীদের ভূমিকা পালন করছে। এখন আমাদের বাচ্চাদের ঘুম পাড়াতে হবে, আওয়ামী লীগ এলো দেশে- এ কথা বলে। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বিএনপির আয়োজনে ‘দুর্নীতি, জ্বালানি সংকটের উৎস’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ জ্বলছে। এ সরকার দেশকে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

কোথাও কথা বলতে পারবেন না, লিখতে পারবেন না, কোথাও যেতে পারবেন না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে গত রোববার আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তার সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সিকিউরিটি টেন্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রশ্নটা হচ্ছে, এত টেন্ট তৈরি করে থাকতে হচ্ছে কেন? বার বার ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন কেন? বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে কেমন দেশ চালালেন আপনারা? আপনারা বলেন যে, টেরোরিজমকে উধাও করে দিয়েছেন!

তাহলে এখন আবার সে চিন্তা আসছে কেন? সেমিনারে দলের পক্ষ থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, একধাপে জ্বালানি তেলের দাম ৫১ শতাংশ না বাড়িয়ে সরকারের বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। গভীর রাতে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে সঙ্কটে ফেলেছে।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, সরকার জনকল্যাণের চেয়ে দলীয় ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সব খরচ দিয়ে জনগণকে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা সরকারের অধীনে অর্থনীতিকে চাঙা করা সম্ভব নয়, কারণ জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। তিনি বলেন, বিশ্বের যেকোন দেশের সরকার ধনীদের থেকে গরিবেদের প্রতি বেশি মনযোগী থাকে।

গরিবরা যাতে সমাজে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারেন সেটা নিশ্চিত করে। কিন্তু বাংলাদেশে এর উলটোটা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ে গণ-আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সেমিনারে মূল প্রবন্ধের ওপর বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, বিশ্ববাজারের মূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বাজারে সমস্ত ব্যায় অন্তর্ভুক্ত করে দাম সমন্বয় করলে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য শতকরা আট শতাংশ কমতে পারে।

এ হিসাবে যা দাঁড়ায় তা হলো, সরকার অন্যায়ভাবে ৫১ শতাংশ নয়, ৫৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করেছে। দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, এ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে জাতীয় নীতিমালা তৈরি করেছে। যেখানে জ্বালানি ও বিদ্যুতকে রাজনৈতিক পণ্য বানানো হয়েছে। তারা জ্বালানি তেলের দাম বাজারমূল্যে নির্ধারণ না করে রাজনৈতিকভাবে করেছে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল মজুমদার, জাকির হোসাইন খানসহ আরও অনেকে।