ArabicBengaliEnglishHindi

বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে তুলা রপ্তানি বন্ধ ৫ মাস ধরে


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩, ৬:২৩ অপরাহ্ন / ২০০
বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে তুলা রপ্তানি বন্ধ ৫ মাস ধরে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ->>
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস ধরে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে ভারতে বর্জ্য তুলা ও সূতা এবং পাটের বর্জ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

আমদানিকৃত এসব পণ্য বিপজ্জনক উল্লেখ করে ভারতের স্থল শুল্ক (কাস্টমস) দপ্তর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বর্জ্য তুলা ও সুতা রপ্তানি বন্ধ রয়েছে বলে রপ্তানিকারকদের দাবি। জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে চালু হয় পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশন ও স্থলবন্দর। শুরু থেকে এ স্থলবন্দর হয়ে ভারতে বর্জ্য তুলা ও সূতা এবং পাটের বর্জ্য রপ্তানি করা হয়।

এ বছরের গত ১১ এপ্রিল প্রায় ৩০ ট্রাক বর্জ্য তুলা ও সূতা এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি করার পর থেকে বন্ধ রয়েছে রপ্তানি। বুড়িমারী স্থলবন্দরের তুলা ও সুতা রপ্তানিকারকরা জানান, গত ১২ এপ্রিল ভারতের আমদানিকারকরা জানান, এ স্থলবন্দর দিয়ে আর এসব সামগ্রী আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না চ্যাংড়াবান্ধা স্থল শুল্ক (কাস্টমস) দপ্তর। ভারতীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে জানতে বুড়িমারী স্থল শুল্ক (কাস্টমস) কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হন এ স্থল বন্দরের বর্জ্য তুলা ও সুতা রপ্তানিকারকরা। কর্তৃপক্ষ ভারতের চ্যাংড়াবান্দা স্থল শুল্ক (কাস্টমস) দপ্তরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৌখিকভাবে জানতে পারেন ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে আপাতত বর্জ্য তুলা ও সূতা এবং পাটের বর্জ্য সেদেশে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে এসব বর্জ্য পণ্য যেকোনো দেশ থেকে আমদানি করা যাবে।

প্রায় এক মাস পর গত ১০ মে ভারতের জলপাইগুড়ি-ফুলবাড়ী ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সেদেশের (ভারত) আমদানিকারকদের চ্যাংড়াবান্ধা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দেয়। চিঠিতে ভারতীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র বা অনুমতিপত্র ছাড়া বাংলাদেশ থেকে বর্জ্য তুলা ও সূতা এবং পাটের বর্জ্য আমদানি নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়। একই নিয়ম বুড়িমারী স্থল বন্দরে চালু করেন ভারতের ফুলবাড়ি ও চ্যাংড়াবান্ধার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার। বুড়িমারী স্থল বন্দরের রপ্তানিকারক মেসার্স বন্ধু ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শামীম হোসেন বলেন, এ বন্দর দিয়ে বর্জ্য তুলা ও সূতা রপ্তানি প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে আমাদের দেশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল বলেন, বুড়িমারী স্থল বন্দরের শুরু থেকে বর্জ্য তুলা ও সূতাসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হত কিন্তু হঠাৎ করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেদেশে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ বন্দর দিয়ে না নিয়ে অন্য বন্দর দিয়ে নিচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে রংপুর কাস্টমস কমিশনারকে জানিয়েছি কিন্তু কাস্টমস এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এতে করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। বুড়িমারী স্থলবন্দরে শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার আবদুল আলীম বলেন, বর্জ্য তুলা ও সূতা এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। আমরা ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা জানিয়েছেন তাদের দেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া এ সামগ্রীগুলো আমদানি করতে দেবে না।