ArabicBengaliEnglishHindi

বৃহত্তর ঐক্য জোট গঠনে বিএনপি তৎপর


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩০, ২০২২, ৫:৩৮ অপরাহ্ন / ৮৮
বৃহত্তর ঐক্য জোট গঠনে বিএনপি তৎপর

নিজস্ব প্রতিবেদক ->
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন আইনকে ‘আইওয়াশ’ আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। এই আইনের অধীনে সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মনে করছে দলটির নীতি নির্ধারকরা । এ অবস্থায় নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলনের পথই বেছে নিয়েছে বিএনপি। দলটির হাইকমান্ড আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ণের আগে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘বৃহত্তর ঐক্য জোট’ গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এ নিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে গত শুক্রবার রাতে ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বৈঠকেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের সিদ্ধান্ত আসে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে ‘বৃহত্তর জোট’ গঠনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে এক দফা কঠোর আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছি আমরা। দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বৃহত্তর জোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। কী উদ্দেশে এই জোট হবে, কারা থাকবেন তা বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করে জানাবো’।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে শুক্রবার ভার্চুয়াল বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে বৃহত্তর ঐক্য জোট গঠন ও একদফা আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও গত জাতীয় নির্বাচনের সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়াও আরো অনেক দলই এই জোটে থাকবে৷ শুধু বিএনপিই নয়, অনেক দলই এখন মনে করছে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনের সময় এসেছে৷ এজন্য আরো বড় জোট দরকার৷ আর সে কারণেই বৃহত্তর জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷

বৃহত্তর এই জোটের কাঠামো বা নাম এখনও চুড়ান্ত হয়নি উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক পর্যায়ের নেতা বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আনুষ্ঠানিক কথা বলা এখনো শুরু করিনি, তবে সহাসাই শুরু করব। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে একটি বৃহত্তর ঐক্যজোটের কাঠামো এবং কর্মসূচি নির্ধারণ করবো।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, দীর্ঘদিন ধরেই নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করে আসছে বিএনপি। এজন্য বৃহত্তর জোট গঠনের জন্য চেষ্টা চলছিলো। তবে সম্প্রতি সরকারের ইচ্ছামতো নির্বাচন কমিশন গঠন আইন পাসের পর বিএনপি নতুন করে ভাবছে। তারই প্রেক্ষিতে খুব দ্রুত সময়ে বৃহৎ ঐক্য গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ সরকার ফের বিগত নির্বাচনের মতো একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন এমন পরিস্থিতির মধ্যে আর সরকারকে সময় দেয়া যাবে না। এক দফা নিয়ে নতুন করে আন্দোলনে নামা ছাড়া বিকল্প নেই। এজন্য সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জোট গঠন হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি কৌশলগত কারণে নানা পন্থায় এ বৃহৎ ঐক্য গঠন করবে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা হবে না। সবাইকে এক দফা নিয়েই সবার সঙ্গে আলোচনা করবে। এদিকে ২০দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিয়েই সরকারকে নিষ্ক্রিয় করে দেবে বিএনপি। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম দল জামায়াতে ইসলামীকেও নিয়েও নতুন করে ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য দল এবং রাজপথে কর্মী-সমর্থক থাকা দলগুলোর সঙ্গে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। সেই সঙ্গে স্থায়ী কমিটির চারজন নেতাকে সমমনা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়া নেতারা ওইসব নেতাকে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের দিন-তারিখ চূূড়ান্ত করবে বলে দলীয় সূত্রে জানায়।

বিএনপির এই বৃহত্তর জোট গঠন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের শরীক এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বৃহত্তর জোট নিয়ে আমার সাথে বিএনপির কথা হয়নি৷ ঐক্য ফ্রন্টের অন্যদের সাথেও কথা হয়নি৷ তবে এই জোটের কথা তারা আরো আগে থেকেই বলছেন৷ এখন হয়তো তারা আনুষ্ঠানিক কথা বলবেন৷’

তিনি বলেন, ‘গণ আন্দোলনের জন্য বৃহত্তর জোটের কোনো বিকল্প নেই৷ এটা এক মঞ্চেও হতে পারে৷ আবার আলাদা আলাদা মঞ্চের একটা জোটও হতে পারে৷ এটা হতেই হবে যদি সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে চাই, সরকারের পরিবর্তন চাই৷