ArabicBengaliEnglishHindi

মেগা প্রকল্পে আশুড়ার বিল হবে উত্তরবঙ্গের অ্যামাজন!


প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২২, ১২:১১ অপরাহ্ন / ২৮২
মেগা প্রকল্পে আশুড়ার বিল হবে উত্তরবঙ্গের অ্যামাজন!

এস এম জীবন ->>
উত্তরবঙ্গের অ্যামাজন খ্যাত দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আশুড়ার বিলকে ঘিরে এমনটাই স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় প্রশাসন।

এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে স্থানীয় দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ এলাকার উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরি কাজ প্রায় শেষের পথে।

আশুড়ার বিলকে তিনদিক থেকে ঘিরে রেখেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শালবন। ৫১৭.৬১ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়েই এ শালবন।

 

এ বনের পশ্চিমে ৩৪৫.৯৫ একর জায়গা বিরামপুর উপজেলার অংশে। আর বাকিটা নবাবগঞ্জ উপজেলার অংশে। এখানে শালগাছ ছাড়াও রয়েছে সেগুন, গামার, কড়ই, বেত, বাঁশ ও জামসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ প্রজাতির বিচিত্র গাছ। বনের ভেতরে প্রায়ই দেখা মেলে বনবিড়াল, খেকশিয়াল, বেজি, সাপ ও নানান প্রজাতির পাখি।

২০১০ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এ শালবনের নামকরণ হয় শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান। বিভিন্ন রঙের শাপলা আর পদ্মফুলে ভরা আশুড়ার বিলের উভয়পাশের শালবনকে সংযোগ করেছে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় কাঠের সেতু। শালকাঠের তৈরি ৯০০ মিটার লম্বা এ সেতুর পশ্চিমে বিরামপুরের খটখটিয়া কৃষ্ণপুর ও পূর্বদিকে নবাবগঞ্জ।

স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি সেতুটি ২০১৯ সালে ১ জুন উদ্বোধনের মাধ্যমে নাম দেওয়া হয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কাঠের সেতু। আশুড়ার বিল ও কাঠের সেতু দেখতে এখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার দর্শনার্থী আসে। সেতু দিয়ে বিলের দুপাড়ের মানুষ যাতায়াত করে। এছাড়া এটি পূর্বে হরিপুর বাজার ও পশ্চিমে হরিপুর বাজারকে সংযুক্ত করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের দুই সদস্যের নামে নামকরণ করা জাতীয় উদ্যান, কাঠের সেতু আর আশুড়ার বিলকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন তৈরি করছেন মহাপরিকল্পনা। গত দুইমাসে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত সভায় সার্ম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেট নামের কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের উপস্থাপনায় জানা যায় মহাপরিকল্পনাটি।

উদ্যোক্তাদের দাবি, সরকারের একটি মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের অ্যামাজনখ্যাত আশুড়ার বিল। বদলে যাবে দিনাজপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলার কয়েক হাজার মানুষের জীবন ব্যবস্থা।