ArabicBengaliEnglishHindi

শরীয়তপুরে দুই সন্তান মিলে মাকে হত্যা,হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৫, ২০২২, ৬:২২ অপরাহ্ন / ৪৩৪
শরীয়তপুরে দুই সন্তান মিলে মাকে হত্যা,হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি

আমির হোসেন , শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
ফুলজান ভানুর (৮২) স্বামী মারা গেছেন ৩০ বছর আগে। ছেলেদের সঙ্গেই থাকতেন। দুই মাস আগে বাড়ির পাশে একটি গাছে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। তখন দুই ছেলে প্রচার করেন, তাদের মা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আশপাশের লোকজন, পুলিশও তাদের কথা বিশ্বাস করেছিল, কিন্তু এখন জানা গেলো- এটি আত্মহত্যা নয় বরং হত্যা।

জমি দলিল করে না দেওয়ায় দুই ছেলে ফুলজান বিবিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় এক ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই ছেলে।

ফুলজান ভানু শরীয়তপুরের জাজিরার উপজেলার পাচু মাতবরকান্দি গ্রামের মৃত আবদুল গফুর সিকদারের স্ত্রী। এ দম্পতির ১০ ছেলে-মেয়ে। মাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে হাবিবুর রহমান সিকদারকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জড়িত সেলিম সিকদার নামে আরেক ছেলে পলাতক রয়েছেন।

জাজিরা থানা সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ নভেম্বর জাজিরার পাচু মাতবরকান্দি গ্রামে বাড়ির পাশে ফুলজান ভানুর লাশ গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ফুলজান আত্মহত্যা করেছেন। লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। ভিসেরার রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তখন পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করছিলেন জাজিরা থানার পরিদর্শক শামছুল হক। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফলে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার ওই প্রতিবেদন হাতে পান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

পুলিশ শুক্রবার সকালে স্থানীয় কাজিরহাট বাজার থেকে ছেলে হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, আরেক ভাই সেলিম সিকদারের সহায়তায় তারা মাকে হত্যা করেন। শরীয়তপুর আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

জবানবন্দির তথ্যের বরাত দিয়ে জাজিরা থানার এসআই ইকরাম হোসেন বলেন, ‘হাবিবুর জানিয়েছেন, জমিজমার বণ্টন নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ২৫ নভেম্বর রাতে সেলিম সিকদার ও হাবিবুর রহমান সিকদার তাদের নামে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন মাকে। ফুলজান জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানান। ক্ষোভে দুই ভাই মায়ের গলা টিপে ধরেন। এতে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। পরে বাড়ির পাশে একটি আম গাছে লাশ রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দেন। পরের দিন তাদের মা আত্মহত্যা করেছেন, এমন প্রচারণা চালান।’

জাজিরা থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘মাকে হত্যা করার কথা এক ছেলে আদালতে স্বীকার করেছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরেকজনের নাম বলেছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তার বক্তব্য পেলে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার হওয়া যাবে।’